নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত চলবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 December 2025 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ (Recruitment Scam in Hill) নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। এই মামলায় ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta high Court)। বুধবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরি আর বহাল থাকবে না।
শুধু চাকরি বাতিলেই বিষয়টি থামছে না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির (Recruitment Scam) অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্ত (CID investigation in Job Scam) চলবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার (Recruitment) সত্যতা সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)–র আওতাধীন পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছিল। অভিযোগ ছিল, নিয়ম না মেনে বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও নাম জড়ায়। পাশাপাশি বিনয় তামাং এবং তৃণমূল যুব নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, যোগ্যতা যাচাই না করেই নিয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, কে যোগ্য আর কে অযোগ্য, তার স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
প্রথমে এই মামলায় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গেল বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের (CBI in Hills Recruitment Scam) নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তবে ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নির্দেশই বহাল রাখে। এরপর রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায়। সেখানে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
বুধবার ফের মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে। শুনানিতে বিচারপতি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যাঁদের নিয়োগ নিয়ে এত প্রশ্ন, তাঁদের বেতন রাজ্য কেন দেবে? তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী?”
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি নির্দেশ দেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের চাকরি আর বহাল থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, আপাতত এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি-কেই দেওয়া হচ্ছে। সিআইডি তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট আদালতে জমা দেবে।