মেসিকে দেখতে না পেয়ে তাণ্ডবে যোগ দেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই নিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬। এদিকে আজই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শনে যাবেন রাজ্যের গঠন করা সিটের (SIT) সদস্যরা।

যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা
শেষ আপডেট: 17 December 2025 10:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেসির কলকাতা সফরের (Messi in Kolkata) দিন যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার আরও এক যুবক। ধৃত রূপক মণ্ডল সেদিন দর্শকাসনে বসেছিলেন। পরে মেসিকে দেখতে না পেয়ে তাণ্ডবে যোগ দেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই নিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬। এদিকে আজই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শনে যাবেন রাজ্যের গঠন করা সিটের (SIT) সদস্যরা।
লিওনেল মেসির কলকাতা সফর (Mesi Tour in Kolkata) ঘিরে যে উত্তেজনা ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati Krirangan) শনিবার সকালে মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হইচই, তার জেরে আর্জেন্তিনীয় মহাতারকা মাঠ ছাড়ার পরই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে ছোড়া হয় জলের বোতল, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার ও ফেস্টুন।
শুধু গ্রেফতার নয়, ধৃতদের জেরা করে তদন্ত আরও জোরদার করছে পুলিশ। শতদ্রু দত্তের সংস্থার কয়েকজন কর্তা ছাড়াও শনিবার যুবভারতীতে দায়িত্বে থাকা একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিদের তলব করা হয়েছে। মোট ছ’জনকে মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। জলের বোতল সরবরাহ, টিকিট বিতরণ এবং দর্শক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল এই সংস্থাগুলির উপর।
মেসির সফরের সময় তাঁদের কাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল, সে সব বিষয়েই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রকৃত কারণ ও দায় ঠিক কার উপর পড়ে, তা স্পষ্ট করতেই এই তদন্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মেসিকে কলকাতায় আনার মূল আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন শতদ্রু দত্ত। ঘটনার পরই তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর রবিবার বিধাননগর মহকুমা আদালত (Bidhannagar Sub-Divisional Court) তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশই হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
শোকজ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে। একই সঙ্গে শোকজ করা হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকেও। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে বিধাননগরের ডেপুটি কমিশনার অনীশ সরকারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও দেবকুমার নন্দনকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সেই দলে রয়েছেন দক্ষিণবঙ্গের ডিজি সুপ্রতিম সরকার, আইপিএস পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মা এবং এডিজি জাভেদ শামিম।