আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 17 December 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবভারতী স্টেডিয়ামের (Yuva Bharati chaos) বিশৃঙ্খলার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিককে শোকজ করল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি। শোকজ করা হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকেও।
এছাড়াও আইপিএস অনীশ সরকারকে (ডেপুটি পুলিশ কমিশনার) সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও অবসরপ্রাপ্ত ডব্লইবিসিএস অফিসার দেবকুমার নন্দনকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটির সুপারিশ মেনে চার অফিসারের নেতৃত্বে স্পেশ্যাল ইনভেসটিগেশন কমিটি বা সিট গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন- আইপিএস পীযূষ পাণ্ডে, আইপিএস জাভেদ শামিম, আইপিএস সুপ্রতীম সরকার এবং আইপিএস মুরলীধর।
কী কারণে গত শনিবার লিওনেল মেসির (Lionel Messi) অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, কেন তা মোকাবিলা করা সম্ভব হল না, এ ব্যাপারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিজি রাজীব কুমার-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের তিন পুলিশকর্তাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। ঘটনার দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হয়েছিল, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল—এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।
গত শনিবার যুবভারতীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। কিন্তু মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের ভিড়ে দর্শকরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতেই পাননি। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় বহু দর্শককে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
কমিটির সুপারিশ ছিল, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সিনিয়র পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হোক। পাশাপাশি সেদিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়। এরপরই রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ তিন পদস্থ কর্তাকে শোকজ করা হল। একই সঙ্গে এক অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ এবং অপর এক অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে যুবভারতীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।