সব মিলিয়ে, কলকাতার সেই বিশৃঙ্খলার দায় কার—এই প্রশ্নের উত্তরে সুনীলের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। তাঁর চোখে, প্রতিশ্রুতিভঙ্গই আগুনে ঘি ঢালার মূল কারণ।

গাভাসকর ও মেসি
শেষ আপডেট: 16 December 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Salt Lake Stadium) লিওনেল মেসির (Lionel Messi) সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ আর ভাঙচুরের ছবি উঠে এসেছে, তার দায় কাঁধে কে নেবে—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বেশ কয়েক দিন ধরেই। সংগঠক, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা—সবার দিকেই আঙুল উঠেছে। কিন্তু এবার একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বললেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। তাঁর মতে, কলকাতার ঘটনার ‘আসল দোষী’ অন্য কেউ নন, স্বয়ং মেসিই।
স্পোর্টস্টার (Sportstar)-এ লেখা নিজের কলামে ক্রিকেট কিংবদন্তি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন—যদি চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকার কথা ছিল, তাহলে মেসি কেন তার অনেক আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে গেলেন? গাভাসকরের দাবি, মেসির উপস্থিতি দুই ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়েন আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ফলাফল—হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেনা দর্শকরা প্রিয় খেলোয়াড়কে ঠিকমতো দেখতেই পেলেন না। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নিল ক্ষোভ, আর তার অন্তিম পরিণতি: নৈরাজ্য!
গাভাসকর ক্ষোভের সুরেই লিখেছেন, ‘কলকাতার ঘটনায় সবাইকে দায়ী করা হয়েছে, অথচ যিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি, তাঁর দিকে আঙুল ওঠেনি। চুক্তির শর্ত প্রকাশ্যে নেই ঠিকই, কিন্তু যদি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকার কথা থাকে, আর তিনি তার আগেই চলে যান, তাহলে দায় স্বয়ং তাঁর ও তাঁর টিমেরও।’
এখানেই থামেননি ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার। সরাসরি খারিজ করেছেন নিরাপত্তাজনিত যুক্তি। গাভাসকরের বক্তব্য, মেসি বা তাঁর সঙ্গীদের কোনও নিরাপত্তা হুমকি ছিল না। রাজনৈতিক নেতা বা তথাকথিত ভিআইপি-দের ঘিরে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। প্রশ্ন—‘মেসির কাছে কি খুব বেশি কিছু চাওয়া হয়েছিল? স্টেডিয়ামের চারদিকে একবার হাঁটা, বা অন্তত একটা পেনাল্টি নেওয়া? সেটুকু হলেই আশপাশের লোকজন আপনাতেই সরে যেত, আর দর্শকরা তাঁদের নায়ককে দেখতে পেত।’
গাভাসকরের সাফ বক্তব্য, হায়দরাবাদ, মুম্বই এবং দিল্লিতে (Hyderabad, Mumbai, Delhi) মেসির অন্যান্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে, কারণ সেখানে প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছিল। সেই তুলনায় কলকাতার ঘটনা আলাদা। তাই একতরফাভাবে সংগঠকদের দোষারোপ করার আগে, দুই পক্ষই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, কলকাতার ঘটনার পর মেসির ভারত সফরের প্রধান সংগঠক শতদ্রু দত্ত-কে (Satadru Dutta) গ্রেফতার করে পুলিশ। বহু মানুষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি এবং মিসম্যানেজমেন্টকে দায়ী করেন। কিন্তু গাভাস্কারের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল—ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনও কিংবদন্তি এত স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক তারকার দিকে দায় ঠেললেন।
সব মিলিয়ে, কলকাতার সেই বিশৃঙ্খলার দায় কার—এই প্রশ্নের উত্তরে সুনীলের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। তাঁর চোখে, প্রতিশ্রুতিভঙ্গই আগুনে ঘি ঢালার মূল কারণ।