শমীকের মন্তব্য, তৃণমূল বুঝে গিয়েছে ২০২৬-এ তারা ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। আসলে রাজ্যে মৃত্যুঘণ্টা শুনতে পাচ্ছে তৃণমূল।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 1 August 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে উত্তাপ আরও বাড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু হয়নি, তবে এর সম্ভাবনা ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এরই মাঝে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলও (BLO)-দের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, যাতে কেউ ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে বাদ না পড়ে। তাঁর সাফ নির্দেশ, নাম বাদ যাওয়ার কোনও ঘটনা যেন না ঘটে।
তৃণমূলের এই অবস্থানকে হাতিয়ার করে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। রোহিঙ্গা (Rohingya) এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, “সব হিন্দু ও ভারতীয় মুসলমানদের পাশে রয়েছে বিজেপি। কেউ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু যারা অবৈধভাবে এ দেশে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই প্রসঙ্গেই দিল্লির প্রসঙ্গ টেনে শমীকের দাবি, দিল্লির বাঙালি কলোনির কত বাড়িতে শিখা, গোপা নামের মহিলারা কাজ করতেন। হঠাৎ করে তারা উধাও হয়ে যাচ্ছেন! এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর তাদের আর কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে দিল্লির ভোটার তালিকায় তাদের নাম আছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের অস্তিত্ব নেই।
শমীকের দাবি, উত্তর ২৪ পরগনার যারা ভারতীয় মুসলিমরা আছেন, যারা নিজেরা ভিনরাজ্যে কাজ করেন, তারাই এদের চিনিয়ে দিচ্ছেন। পুলিশকে ডেকে বলে দিচ্ছেন তারা বাংলাদেশি, এরা রোহিঙ্গা। বারাসত থেকে শুরু করে মধ্যমগ্রাম থেকে তারা ভুয়ো ভোটার কার্ড বানিয়ে নেয়। বাঙালিই বাঙালিকে চিনিয়ে দিচ্ছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে তৃণমূল। বিএলও-দের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। যাতে নাম বাদ না যায়, সেই ভয় দেখিয়ে আসলে তৃণমূল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে।”
শমীকের মন্তব্য, “তৃণমূল বুঝে গিয়েছে ২০২৬-এ তারা ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। তাই এখন এসআইআর বিরোধিতাকে সামনে রেখে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চাইছে। সেজন্যই এই ভয় দেখানোর রাজনীতি। আসলে রাজ্যে মৃত্যুঘণ্টা শুনতে পাচ্ছে তৃণমূল।”
সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেসকেও একহাত নেন শমীক। বলেন, “হাত শিবির এখন পরজীবী। আঞ্চলিক দলের উচ্ছিষ্ট খেয়ে কোনওভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।” প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেসও। পাশাপাশি, ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়েও সুর চড়িয়েছে তারা। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কংগ্রেসকেও নিশানা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।