শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরাই দিল্লি যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য।

শেষ আপডেট: 28 December 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করবেন। কেন? না তিনি সেখানে সামনাসামনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত কাণ্ডকারখানা নিয়ে কথা বলবেন। অসঙ্গতি রয়েছে এমন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার কারা, সে বিষয়ে উত্তর চাইবেন (SIR West Bengal)।
যদিও অভিষেকের দিল্লি যাওয়াকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর কথায়, "নিজের রাজনৈতিক মত প্রকাশের এবং নিজের অবস্থানকে স্পষ্ট করার স্বাধীনতা রয়েছে ওঁর। সাংবিধানিক পরিকাঠামোর মধ্যে দিয়ে শুদ্ধিকরণের কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে কোনও বিচ্যুতি যদি কোনও রাজনৈতিক দল মনে করে তাহলে অধিকার রয়েছে দিল্লি যাওয়ার। অধিকার আছে সুপ্রিম কোর্ট পৌঁছে যাওয়ার। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। উনি মিছিল বার করতে পারেন পদযাত্রা করতে পারেন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসে কবিতা বিতান থেকে কবিতা পড়তে পারেন, সব করতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করবে না, পশ্চিমবাংলাকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে দেবে না।"
শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে দেখা করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরাই দিল্লি যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য।
অভিষেকের বক্তব্য, যদি সত্যিই ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি’ বা বাতিলের তালিকা থাকে, তা হলে সেই তালিকা জনসমক্ষে আনুক কমিশন। একই ভাবে, যদি এক কোটি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি থাকার দাবি করা হয়, তারও নথি প্রকাশ করতে হবে। অভিষেকের কড়া বার্তা, “হয় তালিকা প্রকাশ করুন, না হলে বাংলার মানুষের কাছে কান ধরে ক্ষমা চান।”
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার? তিনি বলেন, “বিএলও, ইআরও-রা বাড়ি বাড়ি ঘুরে যে কাজ করতে এক মাসেরও বেশি সময় নিলেন, সেটা কী ভাবে এক দিনে, এক ঘণ্টার মধ্যেই বার করে দেওয়া হল?” তাঁর দাবি, এই সংক্রান্ত একাধিক স্ক্রিনশট তাঁদের কাছে রয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, সীমা খন্না নামে এক আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। কার নির্দেশে তিনি কাজ করছেন? তাঁর সঙ্গে হওয়া চ্যাটের স্ক্রিনশট আমাদের হাতে আছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণেই এই সমস্যা হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই সব প্রমাণ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দেওয়া হবে। অভিষেক আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কাউকে আড়াল করছে না। যদি সত্যিই তালিকা থাকে, তা প্রকাশ করতে অসুবিধা কোথায়?” তাঁর মতে, তালিকা প্রকাশ না করে ভয় আর বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।