
শেষ আপডেট: 10 May 2022 07:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সমাজে মেয়েদের অবস্থান একুশ শতকের মাঝে এসেও ঠিক কোথায়, তা পরিষ্কার হয় কয়েকটা পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে (Sex)। এদেশে আজও বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে চাকরি করেন মাত্র ৩৩ শতাংশ। আজও এই ভারতের অলিগলিতেই ৪৪ শতাংশ বিবাহিত মহিলা দোকান-বাজারটুকু পর্যন্ত করতে পারেন না, তাঁদের সেই অনুমতি থাকে না। তবে সম্প্রতি ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ যে সমীক্ষা চালিয়েছে তা বাকি সমস্ত পরিসংখ্যানের হিসেব উল্টে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: মাস্কের মুখে তাজের তারিফ, বিশ্বের পয়লা নম্বর ধনীর ব্যাপার কী
এনএফএইচএস-৫ (NFHS-5) এর সমীক্ষা বলছে, ভারতের ৮২ শতাংশ বিবাহিত মহিলা স্বামীর (Husband-Wife) সঙ্গে যৌন সম্পর্ক (Sex) স্থাপনে ‘না’ বলার ক্ষমতা রাখেন। ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে মিলিত হন না তাঁরা।
সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ৮২ শতাংশ অর্থাৎ এদেশের প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন কিংবা তারও বেশি মহিলা যদি না চান তবে স্বামীকে যৌন সম্পর্কের (Sex) জন্য ‘না’ বলতে পারেন। এঁদের মধ্যে আবার শতাংশের হার সবচেয়ে বেশি গোয়াতে। সেখানে স্বামীকে ইচ্ছানুযায়ী সেক্সের জন্য ‘না’ বলতে পারা মহিলা রয়েছেন ৯২ শতাংশ। আর এই ধরনের সাহসিনীর সংখ্যা সবচেয়ে কম রয়েছে অরুণাচল প্রদেশে (৬৩%)। জম্মু কাশ্মীরেও এই শতাংশের হার খুবই কম, মাত্র ৬৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন: রোজ ডিম খেলে কি পেট গরম হবে? ভাল না খারাপ
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া এই এনএফএইচএস-৫ এর সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, মোট দুটি ধাপে এই সমীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ২০১৯ সালের ১৭ জুন থেকে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় ধাপ চলে ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের মোট ১৭টি রাজ্য এবং ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।
দেশের নানা প্রান্তে এখন নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে বৈবাহিক ধর্ষণ বা ম্যারিটাল রেপ। ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এই ধরনের ধর্ষণ আর পাঁচটা ধর্ষণের সংজ্ঞা থেকে খানিক ভিন্ন। স্ত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্বামী যদি তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, সেক্সের জন্য যদি স্ত্রীকে জোর করেন এবং সেই স্ত্রীর বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয়, তবে সেই ‘ধর্ষক’ স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান নেই। নানা মামলায় এই আইন বিতর্ক সৃষ্টি করছে। অনেকেই দাবি করছেন, বিয়ে হয়ে থাকুক বা না থাকুক, কোনও মহিলাকে সেক্সের জন্য জোর করা, জোর করে মিলিত হওয়াই তো ধর্ষণ। তা যদি স্বামী করে, তবে সে পার পাবে কেন? অনেকেই এই প্রশ্ন তুলছেন আদালতের দরবারেও।
সাম্প্রতিক সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিবাহিত পুরুষ এবং বিবাহিত মহিলাদের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। স্বামী চাইছেন বলেই যে অনিচ্ছাকৃত যৌনতায় লিপ্ত হতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই বলে বুঝেছেন দেশের সিংহভাগ মহিলা। আবার পুরুষরাও এটা মেনে নিতে শিখেছেন যে কোনও মহিলা, সে যদি নিজের স্ত্রীও হয় তবু তাঁর উপর নিজের যৌন ইচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
ওই সমীক্ষায় পুরুষদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি তাঁর স্ত্রী তাঁকে যৌন মিলনের প্রশ্নে ‘না’ বলেন তখন তিনি কী করবেন? চারটি বিকল্পের কথা বলা হয়েছিল। এক, রেগে গিয়ে স্ত্রীকে বকাঝকা করা। দুই, স্ত্রীকে টাকাপয়সা না দেওয়া। তিন, স্ত্রীর ইচ্ছেকে গুরুত্ব না দিয়ে জোর করে সেক্স করা এবং চার, অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে মিলিত হওয়া।
সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ছেলেদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ মনে করেন, পুরুষের এই চারটি বিকল্পই প্রয়োগ করার অধিকার রয়েছে। আর এই চারটি বিকল্পের কোনওটাই করা উচিত নয় বলে মনে করেন ৭২ শতাংশ পুরুষ। এছাড়া ১৯ শতাংশ মনে করেন স্ত্রী যৌন মিলনে রাজি না হলে তাঁকে বকাঝকা করার অধিকার রয়েছে স্বামীর।