
শেষ আপডেট: 7 December 2023 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল আর জীবন নয়, আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবাসীদের কাছে। এমনতিও বৃষ্টি-বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ের ঝাপটায় বারে বারেই বিধ্বস্ত হয় সুন্দরবন। আর এখন গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো চাগাড় দিয়েছে পানীয় জলের বিপর্যয়। আর সে বিপর্যয় বলে বিপর্যয়, কল খুললেই নাকি কিলবিল করে বেরোচ্ছে কেঁচো, পোকামাকড়। সে জল মুখে দেওয়া তো দূর, হাত-পা ধোওয়া বা স্নান করারও অযোগ্য।
বাধ্য হয়ে কিংবা না খেয়াল করেই সেই জল খেয়ে ফেলেছেন অনেকে। আবার অনেকে কাপড় পেতে জল ছেঁকে তা খাচ্ছেন, বাচ্চাদেরও খাওয়াচ্ছেন। তা ছাড়া আর উপায় কী! পাশাপাশি ১৫ থেকে ২০টা গ্রামের মানুষজন জলের সমস্যায় ভুগছেন। পোকায় ভরা জল খেয়ে অসুস্থ অনেকেই। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হিঙ্গলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুদপুর, সাহাপুর, চার নম্বর ও ক্যাওড়াখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
গন্ডগোলটা নাকি গোড়াতেই। গ্রামবাসীরা বলছেন, যে পাইপলাইন দিয়ে জল আসছে সেটিতেই গলদ রয়েছে। সরকারি পাইপলাইন দিয়ে আসা জলে থিকথিক করছে কেঁচো, পোকামাকড়। আগেও নাকি অভিযোগ করা হয়েছিল যে নোংরা জল আসছে গ্রামে। আবার সময়মতো জলও পাওয়া যায় না অনেক সময়ে। এইসব অভিযোগ কোনও কাজেই আসেনি। গ্রামবাসীরা বলছেন, দেরি করে হলেও আগে যাও বা জল আসত, এখন পোকামাকড়ে ভরা নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত জল আসছে।
বালতি ভর্তি জলে কিলবিল করছে পোকামাকড়। সেই জল দেখিয়ে নীলিমা মান্না বলছেন, “বাড়ি বাড়ি যাতে জল পৌঁছয় সে জন্য সরকার পাইপলাইন করে দিয়েছে। কিন্তু আপনারাই দেখুন, কী জল আসছে পাইপ দিয়ে। আগে সময়মতো জল আসত না, এমনও হয়েছে দু-তিন দিন জল আসেনি। আর এখন যে জল আসছে তাতে ভর্তি পোকা। আমরা কখনও বাধ্য হয়ে এই জল খেয়ে ফেলছি, আবার কখনও কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার কত জল কিনে খেতে পারে!”
কলের মুখে রুমাল জড়িয়ে জল ছাঁকার চেষ্টা করছেন লক্ষ্মী সাহা, আলপনা গুড়িয়ারা। বলছেন, “অনেকে খাওয়ার জন্য তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে খাওয়ার জল নিয়ে আসছে। আবার অনেকে সাধ্য না থাকলেও জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে। এই জল খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদিকে সাধ্যও নেই যে জল কিনে খাবে। বহুবার পঞ্চায়েতকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত কোনও ব্যবস্থা করছে না।”
হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান লতিফ গাজী ঘটনাটি স্বীকার করে নেন। তাঁর বক্তব্য, “গ্রামবাসীদের জল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে শুনেছি। জলে পোকামাকড় আসছে তাঁরা বলেছে। জল নাকি সময়মতো আসছেও না। এই সমস্যার কথা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সভাধিপতি এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”