বিজেপির অভিযোগ, শুভেন্দুর কনভয় লক্ষ্য করে ইট, বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ (Minister Udayan Guha), কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক-সহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভেন্দুর আইনজীবী অনীশ কুমার মুখোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার রাতেই ই-মেইলের মাধ্যমে কোচবিহার (Coochbehar) জেলা পুলিশ সুপার, কোতয়ালি ও ঘোকসাডাঙা থানায় অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগে খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র ও গাড়ি ভাঙচুর-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজুর আবেদন জানানো হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ বলেন, “বিরোধী দলনেতার উপর যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তা গণতন্ত্রে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। শুভেন্দুবাবুর আইনজীবী যথাযথভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আইন আইনের পথে চলবে।”
তবে এই অভিযোগে পাল্টা তোপ দেগেছেন অভিযুক্ত মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, “গতকাল শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, আমি রোহিঙ্গাদের নিয়ে হামলা করেছি। কিন্তু আজ অভিযোগের তালিকায় রোহিঙ্গা তো দূরের কথা, পুলিশ সুপারের নামটাও নেই! তাহলে কি ওঁর রোহিঙ্গাদের সঙ্গেই কোনও ‘সেটিং’ আছে?” কটাক্ষ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “ওঁর মাথায় ছিট আছে। উনি চিকিৎসার প্রয়োজন।”
এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃতদের আদালতে পেশ করার সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয় বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা যে তুঙ্গে পৌঁছেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দিনহাটা, মাথাভাঙা ও শীতলকুচিতে বিজেপি বিধায়কদের উপর হামলার অভিযোগ আগেই উঠেছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর কনভয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ।
বিজেপির অভিযোগ, শুভেন্দুর কনভয় লক্ষ্য করে ইট, বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়। তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কোনওক্রমে বিরোধী দলনেতার কনভয় বের করে নিয়ে যায়।
এদিকে, এই হামলার ঘটনায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুললেন বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, “এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত। পুলিশ জানত শুভেন্দু কোন পথ দিয়ে যাবেন। অথচ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না। পুলিশের সামনেই তৃণমূল কর্মীরা সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়ির উপর আক্রমণ চালায়। তাহলে কি রাজ্য প্রশাসন এই হামলার সঙ্গে যুক্ত?”
অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “এই হামলার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। কোচবিহারের এই ঘটনার আগে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল নেতৃত্বের বৈঠক হয়েছিল বলেও খবর পেয়েছি। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”