তিনি আরও জানান, মানিকচক বিধানসভার গোপালপুরে যারা অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের সাসপেন্ড করা হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও মন্তব্য বা পদক্ষেপ না করতে নেতাদের সতর্ক করেন তিনি।

ক্যামাকস্ট্রিটে বৈঠকে অভিষেক।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। সময় থাকতে এবার জেলা ধরে ধরে ঘর গোছানোর কাজে নেমে পড়ল শাসকদল। সেই লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
টানা দু’দিন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। দলের অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল বরদাস্ত করা হবে না— স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। সতর্ক করেছেন, প্রয়োজনে সাসপেন্ড করা হবে নেতাদের।
মঙ্গলবার কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর, বুধবার ক্যামাক স্ট্রিটে জলপাইগুড়ি ও মালদহ জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন অভিষেক। সূত্রের খবর, বৈঠকের শুরুতেই ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি নিয়ে জোর দেন তিনি। বলেন, “মানুষের কাছে যান। মানুষের পাশে থাকুন। সমাজের সব স্তরের মানুষের কথা শুনুন।”
তবে বৈঠকে মালদহের (Maldha leaders) নেতাদের উদ্দেশে ছিল অভিষেকের সবচেয়ে কড়া বার্তা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “কে কোথায় কী করছেন, সব নজরে রাখা হচ্ছে। গণ্ডগোল করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, মানিকচক বিধানসভার গোপালপুরে যারা অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের সাসপেন্ড করা হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও মন্তব্য বা পদক্ষেপ না করতে নেতাদের সতর্ক করেন তিনি।
এদিন উত্তরবঙ্গের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক জানান, চারটি আসন যেখানে তৃণমূল বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে, তা ধরে রাখতেই হবে। পাশাপাশি বাকি তিনটি আসনে জয়ের লক্ষ্যে এখন থেকেই মাঠে নামতে হবে দলকে।
ব্লক স্তরে সংগঠনের রদবদল নিয়েও আলোচনা হয় এদিন। অভিষেক জানিয়ে দেন, তালিকা তৈরি করবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। পাশাপাশি এনআরসি নিয়ে বিজেপি-র বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেন অভিষেক। বলেন, “এই আতঙ্ক ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে ওরা। এলাকায় এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। ভয় দূর করুন।”
বাংলা ভাষার অবমাননার বিরুদ্ধেও পথে নামার ডাক দেন তিনি। বলেন, “বাংলাকে বারবার অপমান করা হচ্ছে। তার জবাব দিতে হবে সংগঠিতভাবে। বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব।”
তৃণমূল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারিতে থাকবে দলীয় শৃঙ্খলা। গোষ্ঠীকোন্দল ও জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ থাকলে সরাসরি কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত দলনেতৃত্ব।