
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 14 January 2025 20:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেঁচো খুড়তে কেউটে। মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ব্ল্যাক লিস্টেড ওষুধ কোম্পানির স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরও। গাফিলতির দায় খুঁজতে রাজ্যের নির্দেশে শুরু হয়েছে সিআইডি তদন্তও।
তদন্তভার গ্রহণের পর মঙ্গলবারই মেদিনীপুর মেডিক্যালে পৌঁছেছে সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল। ঘটনার দিনের সিসি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও রোগীদের পরিজনদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা।
সূত্রের খবর, সিআইডি টিমকে রোগী ও রোগীর অনেক পরিজনই জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বলে নয়, অধিকাংশ দিনই রাতে হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তারদের দেখা মেলে না। পরিবর্তে জুনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা সামলানো হয়।
বস্তুত, ঘটনার দিন সিনিয়র ডাক্তাররা ছিলেন না। পরিবর্তে জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রসূতির অপারেশন করা হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার রোগী ও রোগীর পরিজনদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে , রাতে হাসপাতালেই থাকেন না সিনিয়র চিকিৎসকরা।
প্রসঙ্গত, যে স্যালাইনের ব্যবহার ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সেটি গত ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও এক মাস পরেও কীভাবে সেই কোম্পানির স্যালাইন ব্যবহার করা হল, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এক্ষেত্রে কাদের গাফিলতি রয়েছে, তার খোঁজ করতে গিয়েই সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সোমবারই সংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ স্পষ্ট জানিয়েছেন, "দোষীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করব না।"
রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে বলতে গেলে দুর্ব্যবহারের সন্মুখীন হতে হয়। পরিষেবা সংক্রান্ত আরও একাধিক অভিযোগও উঠে আসছে। ফলে নিষিদ্ধ স্যালাইনের তদন্তের সূত্র ধরে সামনে উঠে আসা বাকি অভিযোগেরও তদন্ত হবে কিনা, এখন সেটাই দেখার।