হাসপাতালের এক জুনিয়র চিকিৎসক দাবি করেন, 'এক মহিলা চিকিৎসককে এতটাই মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে যে তিনি শেষপর্যন্ত থেরাপি নিতে বাধ্য হয়েছেন।' তৃতীয় বর্ষের এক পিজিটির অভিযোগ, 'প্রিন্সিপালের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু কিছুই হয়নি।

বাঁকুড়া মেডিক্যালে 'থ্রেট কালচার'!
শেষ আপডেট: 28 July 2025 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার 'থ্রেট কালচার' (Threat Culture) নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি! বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের (Bankura Medical College) চেস্ট মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ এনেছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। দিনের পর দিন মানসিক চাপ, হুমকি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য দফতরের দিকেও উঠছে অভিযোগের আঙুল। প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে জুনিয়র চিকিৎসকেরা।
জুনিয়র চিকিৎসকদের (Junior Doctors) অভিযোগ, চিকিৎসক অভিজিৎ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডোর রোগীদের দেখার দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। বিভাগের প্রধান হয়েও চিকিৎসা পরিষেবা দেন না বললেই চলে। এতে রোগীদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি জুনিয়র চিকিৎসকরাও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের এক জুনিয়র চিকিৎসক দাবি করেন, 'এক মহিলা চিকিৎসককে এতটাই মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে যে তিনি শেষপর্যন্ত থেরাপি নিতে বাধ্য হয়েছেন।' তৃতীয় বর্ষের এক পিজিটির অভিযোগ, 'প্রিন্সিপালের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু কিছুই হয়নি। এখন তো ‘ক্যারিয়ার শেষ করে দেব’ বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।'
'গত ছ'মাস ধরেই ওয়ার্ডে রোগী দেখতে আসেন না। তাঁর গাফিলতিতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, সব দায় পড়ছে জুনিয়র চিকিৎসকদের ঘাড়ে।', চেস্ট মেডিসিন বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগও আনা হয়েছে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতর এবং মেডিক্যাল এডুকেশন ডিরেক্টরেটের (DME) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই অভিযোগ নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের খোলা চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক অর্পণ কুমার গোস্বামীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যদিও আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক পদে থেকেই তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। তাই তাঁকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতালের প্রিন্সিপাল চিকিৎসক পঞ্চানন কুন্ডু জানান, 'তদন্ত চলছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দ্রুত স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হবে।'