রবিবার সাত সকালে ইকো পার্কের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক স্কুটি চালকের। ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে রাস্তায় ছিটকে পড়েন, পরে মৃত্যু।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 January 2026 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ছুটির সকালে ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পথ দুর্ঘটনা। মৃত্যু হল এক স্কুটি আরোহীর। মৃত যুবকের নাম ত্রিদিপ চৌধুরি (Tridip Chowdhury)। বয়স আনুমানিক তিরিশের কাছাকাছি, বাগুইআটি (Baguiati) এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে খবর, রবিবার সকাল নাগাদ ত্রিদিপ স্কুটি চালিয়ে বিশ্ব বাংলা গেটের (Biswa Bangla Gate) দিক থেকে আকাঙ্খা মোড়ের (Akankha More) দিকে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় সেই সময় যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে অভিযোগ, স্কুটির গতি ছিল বেশ বেশি। ইকো পার্কের এক নম্বর গেট ও দু’নম্বর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারান ত্রিদিপ। দ্রুতগতির স্কুটিটি সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে ডিভাইডারে। প্রবল ধাক্কায় স্কুটি থেকে ছিটকে পড়েন যুবক।
দুর্ঘটনার পরই রাস্তায় রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ত্রিদিপের মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, তাঁর মাথায় কোনও হেলমেট (Helmet) ছিল না। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হেলমেট না থাকার কারণেই মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং সেটাই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় পুলিশ (Police)। রক্তাক্ত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে (Hospital)। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় স্কুটিটি ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে পাশের রেলিংয়ে (Railing) গিয়ে আছড়ে পড়ে। সেই ধাক্কাতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্কুটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য।
রবিবার ছুটির দিনে অনেকেই এই এলাকায় হাঁটতে আসেন। তারা প্রত্যেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভিড়ের চোটে যানজট হয়।
এই দুর্ঘটনা ফের একবার শহরে দ্রুতগতিতে বাইক ও স্কুটি চালানো এবং হেলমেট না পরার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ট্র্যাফিক পুলিশের (Traffic Police) তরফে বারবার সতর্ক করা হলেও বহু ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলিতে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে গতি বাড়ানোর প্রবণতা মারাত্মক। অনেকেই বলছেন, এত মৃত্যুর পরও কারও হুঁশ কেন ফিরছে না।