
নওসাদ সিদ্দিকি ও শওকত মোল্লা।
শেষ আপডেট: 19 March 2025 22:40
প্রিয়াঙ্কা পাত্র
মঙ্গলবারই ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকির (Nawsad Siddiqui) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দাবি করেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকি।
এবারও আরও একধাপ এগিয়ে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়কের (Saokat Molla ) দাবি, "ভাঙড়ে নওসাদের গড়ে আইএসএফের ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ওর রাজনৈতিক অস্তিত্ত্ব বিলীন হওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।"
মঙ্গলবার দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তহ্বা বলেছিলেন, "আপনি লিখে রাখুন, নওসাদকে মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতেই হবে! হয় তৃণমূলে যেতে হবে, নয় আগামী দিনে নিজের পরিবারের কারও সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে।"
বুধবার এ ব্যাপারেই দ্য ওয়ালকে একান্ত সাক্ষাৎকারে শওকত বললেন, "ভাঙড় আর আইএসএফের গড় নেই! অলরেডি ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ২৬ এ জেতা তো দূরের কথা নওসাদের জামানত জব্দ হয়ে যাবে! লোটা, কম্বল গুটিয়ে ওকে হুগলি ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই!"
নিজের দাবির স্বপক্ষে শওকতের ব্যাখ্যা, গত বিধানসভা ভোটে নওসাদরা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়েছিল। বলেছিল, ভাঙড়ে মেডিক্যাল কলেজ করবে, একটা অ্যাম্বুলেন্সও দেয়নি। রাস্তাঘাটও তথৈবচ, কোনও কাজ করেনি। এবারের ভোটে মানুষ তার জবাব দেবে। কটাক্ষের সুরে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক এও বলেছেন, "ওর মুখ আর মুখোশ আলাদা। মিথ্যে কথা বলার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলে শুভেন্দুর (অধিকারী) পরেই নওসাদের নাম থাকবে!"
হঠাৎ রাজনীতির চর্চায় নওসাদ কেন?
এর সূত্রপাত, গত ১০ মার্চ নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। সিএমের চেম্বারে তিনি ছিলেন ২২ মিনিট। তারপর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে ফুরফুরা শরিফের ছোট ভাইজানের দলবদল নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। ওই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার তহ্বা সাফ জানিয়েছেন, নওসাদের সামনে দুটো পথ খোলা থাকবে, হয় তৃণমূলে যোগ দাও, নয়তো ওর ঘরেরই কাউকে ওর বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে দাঁড় করাবে তৃণমূল। তাতে নওসাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, নওসাদ তৃণমূলে যোগ নাও দিতে পারেন। পরিবর্তে জোট করতে চেয়ে হয়তো আগামী ভোটে একাধিক আসনও দাবি করতে পারে। তবে নওসাদ সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিতে চাইলেও সেই পথ যে সহজ হবে না, তাও ঠারে ঠারে বুঝিয়েছেন শওকত।
ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বলেন, "নেত্রী নওসাদকে দলে নিলে তাতে তো আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে তৃণমূলের একজন কর্মী হিসেবে মনে করি, নওসাদের মতো লোকেদের নিলে আদতে তৃণমূলের ক্ষতিই হবে। এই সব লোক থেকে দলের উচিত যতটা সম্ভব দূরত্ব রক্ষা করা।"
এ ব্যাপারে নওসাদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে শওকতের মন্তব্যের সূত্র ধরে অনেকে এও বলছেন, শেষ পর্যন্ত নওসাদ তৃণমূলে যোগ দিলে তিনি যেমন শওকতদের প্রবল চাপের মুখে পড়বেন তেমনই পাল্টা চাপের মুখে পড়তে হতে পারে শওকতদের। সম্ভবত, সে কারণেই শওকত মোল্লার মতো অনেকেই চাইছেন না, নওসাদ তৃণমূলে আসুন।
রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। ফলে ভাঙড়ের বিতর্কের জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে কৌতূহল সব মহলে।