সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ডিএ মামলার শুনানি। পুজোর পরই তার রায়দান হওয়ার কথা। সেই প্রসঙ্গে ভাস্কর বলেন - ওই মামলায় তাঁরাই জিতবেন কারণ এটা অধিকারের প্রশ্ন।

ভাস্কর ঘোষ
শেষ আপডেট: 1 October 2025 19:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গা পুজোর (DurgaPuja2025) মধ্যে এবং দীপাবলির আগে বড়সড় সুখবর এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য। ফের তাঁদের ডিএ (DA) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বাড়তি ভাতা কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। আর এই সিদ্ধান্তের পর ফের রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেড়েছে অসন্তোষ।
কেন্দ্র ফের ডিএ বাড়ানোর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের তফাৎ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। এই ইস্যুতেই আবার বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh)। স্পষ্ট কথা, মহার্ঘ্য ভাতা না মেটালে পুজোর পর রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের তীব্র আন্দোলনের জন্য তৈরি থাকতে হবে সরকারকে।
ভাস্কর বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অনেক রাজ্য আছে। কিন্তু তারাও এতটা বঞ্চিত করে না রাজ্য সরকারি কর্মীদের। সব থেকে বেশি বঞ্চনার স্বীকার হন বাংলার কর্মীরাই। কেন্দ্র আবার ৩ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর ফলে ৪০ শতাংশের অন্ত্র হয়ে গেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।' এই প্রসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, পুজোর পরই আরও বড় আন্দোলনে যেতে পারেন তাঁরা। তেমন হলে আসন্ন ভোটের আগে তা সামাল দিতে পারবে না সরকার।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও খোঁচা দিতে ছাড়েননি রাজ্য সরকারকে। তিনিও একটি পোস্ট করে কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ পার্থক্য দেখিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দীর্ঘদিন ধরে চলছে ডিএ মামলার শুনানি। পুজোর পরই তার রায়দান হওয়ার কথা। সেই প্রসঙ্গে ভাস্কর বলেন - ওই মামলায় তাঁরাই জিতবেন কারণ এটা অধিকারের প্রশ্ন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়ার বিষয় নিয়েও তাঁরা আশাবাদী। তবে তেমনটা যদি না হয় তাহলে ভোটের সময় পর্যন্ত বড় আন্দোলন করা হবে বলেই কার্যত হুমকি দিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের অধিকার। সেই হারে কেন্দ্রীয় ডিএ দিতে হবে রাজ্যকে। কিন্তু রাজ্য তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালত তখন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল, অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। ওই সময়সীমাও ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেছে।
নবান্নের যুক্তি ছিল, বকেয়া ডিএর সঠিক অঙ্ক নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কত টাকা আদতে প্রাপ্য, তার হিসেব কষতে আরও সময় প্রয়োজন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন স্পষ্ট—“রাজ্যের বাইরে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীরা যদি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পান, তবে বাংলার কর্মীরা কেন বঞ্চিত হবেন?”
যুক্তি, পাল্টা যুক্তির আবহে ডিএ মামলার ‘সওয়াল’ পর্ব শেষ। এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ আদালত কী রায় দেয়।