কমিশনের দায়িত্ব বিএলও, ডিইও-দের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই সেটা হচ্ছে না- অভিযোগ শমীকের।

শমীক ভট্টাচার্য ও জ্ঞানেশ কুমার।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) ঘিরে রাজ্যে যখন রাজনৈতিক পারদ টগবগ করছে, তখন হঠাৎই পাল্টে গেল ছবিটা। এতদিন শাসকদলের অভিযোগ ছিল—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) নাকি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুরে সুর মেলাচ্ছেন। কিন্তু শুক্রবার যেন উলটপুরাণ! এবার তোপের মুখে সিইসি, তাও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফে (BJP)। সরাসরি নাম করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পরই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে চাপানউতোর। তাঁর দাবি, ফলতা বিডিও এলাকায় মৃত ভোটারের নাম তুলতে নাকি তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গিরের নির্দেশে বিএলওদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। আর তার পরেই বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে শমীকের সুর আরও তীব্র।
শমীকের অভিযোগ, এসআইআর পদ্ধতি মানছে না তৃণমূল। বরং উলটে মিথ্যা তথ্য আপলোড করাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিএলওদের ওপর। তিনি সাফ জানিয়ে দেন—আগামী সপ্তাহেই তাঁরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনে (Election Commissioner) যাবেন। ২ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই হবে সেই সফর। তাঁর দাবি, এখনও অনেক অনুপ্রবেশকারী বাংলায় রয়ে গিয়েছেন। আর তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে মরিয়া শাসকদল।
বর্ডারের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক। তাঁর কথায়, “বর্ডারে যে বাসিন্দারা বসে আছেন, তাদের থেকে এ রাজ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি। যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তারা একাংশ মাত্র। বাকি যারা রয়েছেন, তাঁদের নামও তোলার চেষ্টা চলছে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, “কমিশনের দায়িত্ব বিএলও, ডিইও-দের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই সেটা হচ্ছে না, ফলে নির্বাচনের কাজে যুক্ত একাংশ বিএলও, ডিইও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।"
এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই শমীক নিশানা করেন দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানগর্ভ বাণী দিলে চলবে না। এখানে আসতে হবে। গ্রাউন্ড জিরো দেখতে হবে। প্রতিনিধি পাঠালে হবে না।”
আরও বলেন, “যদি ভাবেন দিল্লি থেকে ফোনে কন্ট্রোল করবেন, তা হবে না। প্রয়োজনে এখানে এসে অফিসে বসুন।”