
শেষ আপডেট: 8 November 2023 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মন্দিরের অধিষ্টাত্রী দেবীপ্রতিমার পায়ে বেলকাঁটা ফোঁটানোয় বেরিয়ে এসেছিল রক্ত। সাধক কমলাকান্তের সেই অলৌকিক কাণ্ডে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন উপস্থিত মানুষজন। এখানেই থেমে নেই, পরবর্তীতেও এমনই অজস্র অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন তাঁরা। এখনও সাধক কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামেই পরিচিত বর্ধমান শহরের এই মন্দিরটি।
কথিত আছে, সাধক কমলাকান্ত অমাবস্যার দিনে বর্ধমানের মহারাজাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। সাধক কমলাকান্তের মৃত্যুর সময়ও নাকি এমনই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ। মৃত্যুর সময় গঙ্গা স্পর্শ করতে চান অনেকেই। তবে সাধক কমলাকান্ত গঙ্গায় যেতে চাননি। দেখা গিয়েছিল, এই কালীবাড়ির মাটি ফুঁড়ে আচমকা উঠে এসেছিল জল। যা আসলে গঙ্গা বলেই বিশ্বাস ভক্তদের। যে স্থান থেকে জল উঠে এসেছিল, তাকে কুয়োর মতো বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে কমলাকান্তের কালীবাড়িতে।
সালটা ১৮০৯। বর্ধমান শহরের ঐতিহাসিক কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এই মন্দিরটি স্থাপন করেছিলেন স্বয়ং কমলাকান্ত। কথিত আছে, এই মন্দিরেই পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে কালী সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন তিনি। প্রতি অমাবস্যায় নিজের হাতে মাটির কালীমূর্তি গড়ে পুজো করতেন সাধক কমলাকান্ত। বর্ধমান শহরের বোরহাটের কাছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে সে পুজোয় ছেদ পড়েনি আজও। ছেদ পড়েনি মাগুর মাছের পদ রেঁধে ভোগ সাজানোতেও। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ছিল মাটির প্রতিমা। প্রতিবছর কালীপুজোর পর এক বছর রেখে দেওয়া হত মূর্তি। পরের বছর আসত নতুন প্রতিমা। তবে ভক্তদের ইচ্ছায় এখন সাড়ে ছ’ফুট উচ্চতার কষ্টি পাথরের কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
মন্দির ট্রাস্টির সভাপতি প্রশান্ত কোনার বলেন, ‘‘প্রতিদিন দেবীকে মাগুর মাছের ভোগ খাওয়াতেন সাধক কমলাকান্ত। সে রীতি মেনে আজও মা কালীকে প্রত্যেক দিন মাগুর মাছের ভোগ দেওয়া হয়। কমলাকান্ত ও এই মন্দিরকে ঘিরে বহু অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। মা কালী জীবিত অবস্থায় এ মন্দিরে অবস্থান করছেন প্রমাণ করতে মহারাজা তেজচন্দ্রের সামনে কালীমূর্তির পায়ে বেলকাঁটা ফুটিয়ে রক্ত বার করে দেখান কমলাকান্ত। এমনকি, অমাবস্যায় মহারাজকে পূর্ণিমার চাঁদও দেখিয়েছিলেন তিনি।’’
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় কমলাকান্তের জন্ম। পাঁচ বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পর গলসির চান্না গ্রামে মামাবাড়িতে চলে আসেন। পরে এ গ্রামেই শুরু হয় তাঁর কালীসাধনা। বোরহাটের কাছে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনেও কাহিনি রয়েছে। কমলাকান্তর কালীসাধনার কথা জানতে পেরে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসেন তত্কালীন মহারাজ তেজচন্দ্র মহাতাব। সেখানে কালীর পুজোপাঠের দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি মহারাজের উশৃঙ্খল পুত্র প্রতাপচাঁদকে শিক্ষাদীক্ষা ও সংস্কারে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্যও কমলাকান্তের দ্বারস্থ হন। সে জন্য কমলাকান্তকে বোরহাটের লাকুড্ডিতে একটি বাড়ি এবং কোটালহাটে একটি মন্দিরের জন্য জমি দান করেছিলেন তেজচন্দ্র। সে জমিতেই মন্দির স্থাপনা করে সিদ্ধিলাভ করেন কমলাকান্ত।