ধর্ম ও রাজনীতির সংঘাতে শনিবারের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, ধর্মীয় মঞ্চ আদৌ কি রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে থাকছে?

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মীয় সভায় রাজনীতির অভিযোগ!
পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের গুড়গ্রামে আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় সম্মেলন ঘিরে শনিবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল। সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া ধর্মীয় আলোচনাই ক্রমে রূপ নেয় রাজনৈতিক তরজায়। অভিযোগ, সম্মেলন চলাকালীন তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী সেখানে গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া যাবে না বলে আপত্তি তোলেন। এর পরেই ধর্মীয় সভার নামে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বচসা ক্রমেই হাতাহাতিতে গড়ায়। সেই সময় এক সাধুকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে (Sadhu attacked in Purba Medinipur over 'Jai Shri Ram' chanting)। পাল্টা অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার একাংশ এক ব্যক্তিকে মারধর করেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতে ভগবানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
আক্রান্ত সাধুকে রাতেই চণ্ডীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে এই ঘটনার পিছনে কারা জড়িত এবং ঠিক কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
এ বিষয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সুন্দর পণ্ডা বলেন, “ধর্মীয় সভার নামে বিজেপি আরএসএসকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নামেও অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়। স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা তারই প্রতিবাদ করেছিলেন। কোনও রকম হিংসা সমর্থন করি না।”
অন্য দিকে, আয়োজকদের একাংশের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতির সংঘাতে শনিবারের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, ধর্মীয় মঞ্চ আদৌ কি রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে থাকছে? পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে এখন ভগবানপুরের গুড়গ্রামের মানুষ।