Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার সমাধান’, পাহাড় ও সমতলের মন জিততে উন্নয়নের ডালি শাহের

সুন্দরবনে ‘অদৃশ্য’ বাঘের ত্রাস! ঘরবন্দি গোটা গ্রাম, জঙ্গলে উড়ছে ড্রোন

শীতের সকালের কাঁপুনিকে ছাপিয়ে আতঙ্ক এখন একটাই—বাঘ!

 সুন্দরবনে ‘অদৃশ্য’ বাঘের ত্রাস! ঘরবন্দি গোটা গ্রাম, জঙ্গলে উড়ছে ড্রোন

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 2 December 2025 19:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের সকালের কাঁপুনিকে ছাপিয়ে আতঙ্ক এখন একটাই—বাঘ (Royal Bengal Tiger)! সোমবারের পর মঙ্গলবারও সুন্দরবনের (Sundarban) জঙ্গল লাগোয়া গ্রামপথ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বড় বড় তাজা পায়ের ছাপ। যেন রাতভর ছায়ার মতো গ্রামজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে কোনও বিশাল দেহী প্রাণী। পাথর প্রতিমার উপেন্দ্রনগরে এখন একটাই ফিসফাস—“রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঢুকে পড়েছে গ্রামে!”

গ্রামের জঙ্গলপথে দাঁড়িয়ে থরথর হাতে মোবাইলে বাঘের পায়ের ছাপের ছবি তুলছিলেন এক যুবক। পাশে কাঁপা গলায় এক বৃদ্ধা বলছিলেন, “ওই দেখুন, এত বড় ছাপ! এটা মানুষ বা কুকুরের নয়। বাঘই গ্রামে ঢুকেছে। রাতভর নেমে এসেছে কোনও অদেখা ছায়া…”

ঘটনাস্থল শ্রীধরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠিক উপেন্দ্রনগর। ঠাকুরান নদীর চর লাগোয়া জঙ্গলে সোমবার ভোরে প্রথম দেখা গিয়েছিল পায়ের ছাপ। মাপ, গভীরতা, দাগ—সব মিলিয়ে বন দফতরের অনুমান, “এ নির্ঘাত রয়্যাল বেঙ্গল!”

তার পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা গ্রামকে। মানুষ নিজেদের ঘরেই যেন বন্দি।

এক গ্রামবাসীর কথায়, “কাল রাত থেকে ঘুমাইনি। জঙ্গলপথে, বাঁশতলায়, মাঠের ধারে—সর্বত্র একই ছাপ। মনে হচ্ছে, বাঘটা পুরো গ্রামটা এক চক্র মেরে গেছে। কাজকর্ম সব বন্ধ। নদীতে মাছ ধরতেও যেতে পারছি না। বাচ্চাদের বাইরে বের করাই দায়!”

আতঙ্কের মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দিনের আলোতেও অনেকে আর দরজা খুলছেন না। আর রাত? গ্রামবাসীর কথায়, “শীতের রাত। আর অন্ধকারে বেরোলে যদি হঠাৎ পেছন থেকে লাফিয়ে পড়ে! কে বাঁচাবে?”

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মঙ্গলবার সকালে বন দফতর পুরো গ্রাম চারদিক থেকে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। লাঠি হাতে চলছে পাহারা।

কিন্তু বাঘটি কোথায় গেল? জঙ্গলে ফিরে গেছে? নাকি মানুষের বাড়ির পাশেই এখনো ঘুরছে অদেখা ছায়ার মতো? এই রহস্যই আরও বাড়াচ্ছে ভয়।

বাঘের গতিবিধি খুঁজতে এদিন আকাশে ওড়ানো হয়েছে ড্রোন। পাশাপাশি জঙ্গলের ধারে রেখে দেওয়া হয়েছে খাঁচা। তবুও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলল না কোনও দেখা—শুধুই পায়ের ছাপ, আর নিঃশব্দ আতঙ্ক। গ্রামে মাইকে ঘোষণা করে বন দফতর মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—“আতঙ্কিত হবেন না।”

কিন্তু রাত নেমে এলেই উপেন্দ্রনগরে যেন অন্য এক গল্প, হাওয়া থমথমে, আলো ম্লান, আর কোথাও না কোথাও,
কেউ যেন ফিসফিস করে…“বাঘটা কি এখনও এখানেই আছে!”


```