সোমবার সকালে একটি স্কুলে তৈরি হওয়া হিয়ারিং সেন্টারে এসে নথি খতিয়ে দেখছিলেন মুরুগান। মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও ছিল তাঁর। সেই সময়ই শতাধিক মানুষ স্কুল চত্বরে জড়ো হন। পরিস্থিতি আঁচ করে উস্থি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

সি মুরুগান (ছবির ডান দিকে)
শেষ আপডেট: 30 December 2025 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআরের (SIR) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ১১টি নথি প্রমাণ হিসেবে দেওয়া যাবে। কিন্তু রাজ্যে অনেকেই এই ১১টি নথির বাইরের নথি জমা করছেন এবং বিএলও-ও সেই নথি জমা নিচ্ছেন! এমনটাই পর্যবেক্ষণ করেছেন নির্বাচন কমিশনের পাঠানো রোল অবজার্ভার সি মুরুগান (Roll Observer C Murugan)। বিষয়টি নিয়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের ইতিমধ্যে কড়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সি মুরুগান সকাল থেকেই সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (South 24 Pargana) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক। মগরাহাটে (Magrahat) গেলে তাঁর গাড়িতে হামলা করে দরজার হাতল ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই সামনে এল এই নথির বিষয়টি।
সূত্রের খবর, মুরুগানের নজরে এসেছে অনেক জায়গায় এসআইআরের (SIR) জন্য নির্দিষ্ট করা ১১টি নথি বাইরে অন্য নথি কেউ কেউ জমা করেছেন। কারা এই নথি জমা করেছেন এবং কারা জমা নিয়েছেন, তাদের একটি তালিকা মাইক্রো অবজার্ভারদের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্যের সিইও দফতর এবং স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তকে জানাবেন বলেও জানা গেছে। যদিও ১১টির বাইরে ঠিক কোন নথি জমা পড়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে একটি স্কুলে তৈরি হওয়া হিয়ারিং সেন্টারে এসে নথি খতিয়ে দেখছিলেন মুরুগান। মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও ছিল তাঁর। সেই সময়ই শতাধিক মানুষ স্কুল চত্বরে জড়ো হন। পরিস্থিতি আঁচ করে উস্থি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
পরিস্থিতি বুঝে বিশেষ পর্যবেক্ষক স্কুল থেকে বাইরে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভকারীরা। বিএলএ-২দের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও মুরুগান মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে কথা চালিয়ে যান এবং নথি যাচাই ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন। কোথাও কোনও সমস্যা হলে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।
এরপর সেখান থেকে বেরোনোর সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা আবার তাঁকে ঘিরে ধরে একই দাবি তোলে। অভিযোগ, সেই সময়ই মুরুগানের গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির লক ভেঙে দেওয়া হয়।