গত সপ্তাহে কুলতলির রাখী নস্কর ও মন্দিরবাজারের রিয়া সরদার মন্দিরে মালাবদল ও সাতপাক ঘুরে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। সমাজের কটাক্ষ, প্রতিবাদের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েননি তাঁরা।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 10 November 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজের বাঁধাধরা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে ভালবাসার (Love Story) পথে হাঁটল দুই তরুণী—রিয়া সরদার ও রাখি নস্কর (Riya-Rakhi)। আর তাঁদের এই মুক্তচিন্তা ও সাহসিকতাকে সম্মান জানাতে এগিয়ে এল সুন্দরবনের শান্তি সংঘ ক্লাব এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সোমবার সকালে কুলতলির বকুলতলায় এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে রিয়া ও রাখিকে সংবর্ধনা জানানো হল।
দলের তরফে জানানো হয়েছে, “স্বাধীন ভারতের স্বাধীন মানসিকতা, মানবিকতা, দৃঢ় চিন্তাভাবনা ও সাহসিকতার জন্যই এই সংবর্ধনা।” অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)।
অভিষেক বলেন, “ভালবাসা কোনও ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ মানে না। ওরা জানত, এই পথ সহজ হবে না। তবু ওরা পিছিয়ে যায়নি। আমি ওদের কুর্নিশ জানাই—যাঁরা এই ভালবাসাকে আশ্রয় ও সাহস দিয়েছেন, তাঁদেরও অভিনন্দন।”
অভিষেক আরও যোগ করেন, “আমি খুব শীঘ্রই রিয়া ও রাখীর গ্রামে যাব। কারণ, ওদের এই বন্ধন প্রমাণ করেছে—ভালবাসা মানে মানবতা, আর মানবতা হল সমাজের আসল পরিচয়।”
গত সপ্তাহে কুলতলির রাখী নস্কর ও মন্দিরবাজারের রিয়া সরদার মন্দিরে মালাবদল ও সাতপাক ঘুরে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। সমাজের কটাক্ষ, প্রতিবাদের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েননি তাঁরা। দু’জনেই পেশায় নৃত্যশিল্পী—পরিচয় ফোনে, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, আর তারপর একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত।
রিয়া জানিয়েছেন, “ভালবাসাটাই আসল। কাকে ভালবাসছি, সেটা বড় কথা নয়।” রাখীর কথায়, “সমাজ কী বলল সেটা মুখ্য নয়, আমরা জানতাম—একসঙ্গে থাকলেই জীবন সম্পূর্ণ।”
এই বিবাহ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে কুলতলির বকুলতলা গ্রামে উৎসবের আবহ। অভিষেকের কথায়, ওদের গল্প আগামী প্রজন্মকেও বার্তা দিল- ভালবাসা মানে সাহস, ভালবাসা মানে নিজের সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দেওয়া।