পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, ওই মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক রং, যা মানবদেহের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগর মেলায (Gangesagar) কো ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ (Detention of sweets mixed with poisonous colors at the fair)। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মেলা শুরুর মুখে টানা নজরদারিতে নেমে ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা বাজেয়াপ্ত করেছেন প্রায় ১৪ কেজি মিষ্টি। পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, ওই মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক রং, যা মানবদেহের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর (Risk to the health) হতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
শুধু ভেজালই নয়, অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের অভিযোগে ৩২ জন দোকানদারকে নোটিস ধরানো হয়েছে। পাশাপাশি, ফুড লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট না থাকা আরও ৩২ জন ব্যবসায়ীকে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এ বছর মেলা শুরুর অনেক আগেই সাগরদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশের দোকানগুলিতে বিশেষ নজরদারি শুরু করে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। কীভাবে খাবার তৈরি হচ্ছে, কোন পরিবেশে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সবই খতিয়ে দেখা হয়। বিভিন্ন দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একাধিক মিষ্টির দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ মিষ্টি বিক্রি হচ্ছিল, তার সঙ্গে মেশানো হয়েছিল ক্ষতিকর রং। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। আপাতত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হলেও, পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আধিকারিকরা।
ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়ন্ত সুকুল বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলায় আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। সেই কারণেই আগাম একাধিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
মেলার সময় যাতে ফুড লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনও দোকান খাবার বিক্রি না করতে পারে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাগরদ্বীপের পাঁচটি জায়গায় শিবির করে অন-দ্য-স্পট শংসাপত্র তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। আবেদনের ভিত্তিতে ৪৫ জন ব্যবসায়ীকে ফুড লাইসেন্স এবং ৬০ জনকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বাজার সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে দোকানদারদের ‘নন-ফুড কালার’ ব্যবহার না করার বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের দাবি, মেলা চলাকালীন বিশেষ নজর থাকবে জিলিপি, চপ ও ঘুগনির মতো খাবারের উপর, কারণ এই ধরনের খাবারে রং মেশানোর প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে বেশি।