২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পরের দিনই কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। পরে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও, মামলা চলাকালীন একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হাসপাতাল অনুপস্থিতি-সহ বিভিন্ন দিক।
স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের পর গত বছরের ২০ অগস্ট কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জাতীয় টাস্ক ফোর্স (এনটিএফ) গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আরজি কর মামলার রায় ঘোষণা করে শিয়ালদহ আদালত। ওই রায়ে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০ জানুয়ারি বিচারক অনির্বাণ দাস তাঁকে আজীবন কারাবাসের সাজা দেন। তবে শিয়ালদহ আদালতের রায়ের আগেই নির্যাতিতার বাবা-মা সিবিআই তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে সেই আবেদন করা হলেও, তখন সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলায় তা শুনতে চাননি বিচারপতি ঘোষ।
এর পরে একই আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জানান নির্যাতিতার মা-বাবা। সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না স্পষ্ট করেন, একই আবেদনের ভিত্তিতে দুই আদালতে একসঙ্গে শুনানি চলতে পারে না—হয় হাইকোর্ট, নয়তো সুপ্রিম কোর্ট।
মাত্র দু’দিন আগেই কন্যার ধর্ষণ-খুনের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, অপরাধে একজন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। গত সোমবার নির্যাতিতার মা বলেন, “আর কিছু চাওয়ার নেই। মেয়ের মৃত্যুর বিচার ছিনিয়ে আনবই।” প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। কন্যাহারা পিতাও স্ত্রীর বক্তব্যে সায় দেন।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে আরজি কর মামলার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্র এ বার পুরোপুরি কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হল।