সূত্রের খবর, এ বার আঁকা সেরা ছবিগুলি আগামী দিনে জেলের অনুষ্ঠান কিংবা সরকারি মেলায় বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতেও বন্দিদের আঁকা ছবি অনলাইনে বিক্রি হয়েছে, ভিনরাজ্যের প্রদর্শনীতেও জায়গা পেয়েছে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 31 January 2026 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় প্রেসিডেন্সি, আলিপুর-সহ রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রীয় জেলের অন্দরে ফাঁসির মঞ্চে শেষ হয়েছিল বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবন। সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতাতেই এ বার নেতাজি জয়ন্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও উপ সংশোধনাগারে অন্য রকম ছবি। লোহার শিকের ভিতরেই রঙ-তুলি হাতে ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখলেন বন্দিরা (story of freedom behind iron doors! Revolutionaries on the canvas of prisoners at the initiative of the Prisons Department)।
কারা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজি জয়ন্তী উপলক্ষে বন্দিদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির। প্রেসিডেন্সি, আলিপুর-সহ বিভিন্ন জেলে বন্দিরা নিজের হাতে আঁকেন নেতাজি, ক্ষুদিরাম, ভগৎ সিং, সূর্য সেন, বিনয়-বাদল-দীনেশের মতো বিপ্লবীদের ছবি। পাশাপাশি ক্যানভাসে উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাস, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়দের প্রতিকৃতিও। কোথাও আবার বন্দিরা তুলে ধরেন জেলের পুরনো স্থাপত্য আর ইতিহাসের নিদর্শন।
কারা দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই চলে এই শিল্পচর্চা। তাঁদের কথায়, শিল্পের মধ্য দিয়ে বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। সূত্রের খবর, এ বার আঁকা সেরা ছবিগুলি আগামী দিনে জেলের অনুষ্ঠান কিংবা সরকারি মেলায় বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতেও বন্দিদের আঁকা ছবি অনলাইনে বিক্রি হয়েছে, ভিনরাজ্যের প্রদর্শনীতেও জায়গা পেয়েছে। দমদম, প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বহরমপুর জেলের বন্দিদের শিল্পকর্ম তখন বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
নেতাজি জয়ন্তী উপলক্ষে প্রেসিডেন্সি জেলে আয়োজন ছিল আরও বিস্তৃত। জেলের অন্দরে বিপ্লবীদের স্মৃতিসৌধগুলি সাজিয়ে তোলা হয় আলো ও ফুলে। বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষের সেলও আলোকসজ্জায় মোড়া হয়। নেতাজির জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা, দেশাত্মবোধক গান, শ্রুতিনাটক—সবেতেই অংশ নেন বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা। কেউ কবিতা পাঠে, কেউ আবার গানে শ্রদ্ধা জানান আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতাকে।
কারা দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই উপলক্ষে বিভিন্ন জেলে বন্দিরাই প্রকাশ করেন দেওয়াল ম্যাগাজিন। সেখানে কলমে ফুটে ওঠে বিপ্লবীদের জীবনকথা, ইতিহাসের নানা তথ্য, আবার কোথাও সাদা-কালোয় ধরা পড়ে শিল্প ও সংস্কৃতির নানা রূপ। ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠান। জেল চত্বরে যেখানে স্বাধীনতা ফলক রয়েছে, সেগুলি রং করা, ফুল দিয়ে সাজানোর দায়িত্বও থাকে বন্দিদের হাতেই।
লোহার দরজা আর প্রহরার মধ্যেও তাই এই ক’দিন জুড়ে জেল যেন অন্য রূপ নেয়—যেখানে শিল্প, স্মৃতি আর স্বাধীনতার ইতিহাস মিলেমিশে এক অন্য অধ্যায়ের জন্ম দেয়।