
সোমেও সিকিমে আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারের আশা নেই
শেষ আপডেট: 17 June 2024 07:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি কমার নাম নেই। রবিবার উত্তর সিকিমে নামতেই পারল না কপ্টার। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এদিন কপ্টার উড়তে পারেনি। আজ, সোমবার আবহাওয়ার উন্নতি হলে টুং থেকে মঙ্গন পর্যন্ত পর্যটকদের হাঁটা পথে নিচে নামিয়ে আনা হবে। তবে এদিন সকাল থেকে পরিস্থিতির এতটুকু উন্নতি হয়নি। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকেই পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু হতে পারে।
সিকিমে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দুর্যোগ। চার দিন পরেও সামগ্রিক পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। সারাদিন বৃষ্টি আর ঘন কালো মেঘের জেরে কমে গিয়েছে দৃশ্যমানতা। রবিবার নতুন করে মাঙ্গন থেকে গ্যাংটক এবং সিংথাম যাওয়ার একাধিক রাস্তা ধসের কবলে পড়ে। ফলে উত্তর সিকিমের লাচুং ও চুংথাংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের এয়ারলিফট করার পরিকল্পনা রবিবারও কার্যকর করা যায়নি।
সিকিম প্রশাসন সূত্রের খবর, গ্যাংটকে রাখা হয়েছে দুটি হেলিকপ্টার। প্রয়োজনে বাগডোগরা থেকেও সেনাবাহিনীর কপ্টার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। টুং থেকে মঙ্গন পর্যন্ত পর্যটকদের প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তা হাঁটা পথে নিচে নামিয়ে আনা হবে। তারপর ধস পেরিয়ে সেখান থেকে সড়ক পথে গ্যাংটকে আনার চেষ্টা চলবে। তবে আবহাওয়ার উন্নতির উপরই সমস্ত পরিকল্পনাই নির্ভর করছে।
রবিবার নতুন করে মঙ্গনের পথে অন্তত ২০-২৫ জায়গায় ধস নেমেছে। কয়েকটি জায়গায় রাস্তা একেবারে নিশ্চিহ্ন। জঙ্ঘুতে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে তিনটি সেতু। একইসঙ্গে জঙ্ঘু থেকে চুংথাম গোটা রাস্তা কার্যত নিশ্চিহ্ন। সেকারণে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও সেনাবাহিনী এখনও সেখানে পৌঁছতে পারেনি। সিকিম রাজ্য প্রশাসন খবর, লাচুং, চুংথামে আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেল ও স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার, পানীয় জলের ব্যবস্থা করছে। চুংথামের একটি গুরুদ্বারেও পর্যটকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে উত্তর সিকিমে ফের ভারী বৃষ্টি হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গন ও নামচি জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। এদিকে পাহাড়ের ঢাল থেকে পাথর পড়া অব্যাহত থাকায় রবিবার সিকিম ও বাংলার কালিম্পং জেলার লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃষ্টির প্রভাবে কালিম্পংয়েও নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের সর্তক করেছে আবহবিদরা।