সাংবাদিকতা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। প্রবীণ সাংবাদিকদের একাংশের মতে, এদিন যা ঘটেছে তা নাটকীয় এবং তার মধ্যে একটা আকস্মিকতা রয়েছে। ফারাক শুধু এটুকুই।

শেষ আপডেট: 2 March 2026 22:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক দুপুর দুটো। মথুরাপুরের মাঠে তখন চড়া রোদ। বিজেপির রথযাত্রা শুরু হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র (Amit Shah) সভার খবর সংগ্রহ করতে সেখানে ছিলেন ‘রিপাবলিক বাংলা’র সাংবাদিক সন্তু পান (Republic Bangla Journalist Santu Pan)। মাইক হাতে লাইভ করছিলেন, চ্যানেলে সেই ধারাবিবরণী চলছিল। যেমন চলে। তার পর হঠাৎ দেখা গেল, সেই সাংবাদিক মঞ্চে উঠে অমিত শাহর হাত থেকে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিলেন (Journalist Santu Pan joins BJP)। তার পর তা উঁচিয়ে ধরলেন গর্ব গর্ব মুখে। পরে ফেসবুকেও সেই ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।
সন্তু তরুণ সাংবাদিক। রিপাবলিক বাংলার গতে তিনি সাংবাদিকতা করতেন। এদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় সাংবাদিক মহলেও সাড়া পড়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার তৎকালীন সাংবাদিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Journalist Jagannath Chatterjee)।
আরএসএসের স্বয়ংসেবক ছিলেন জগন্নাথ। তিনি যে সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা করতেন, তাদেরও সম্ভবত তা অজানা ছিল না। একুশ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত নবান্নের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার পর তৃতীয় তালিকায় দেখা যায় তাঁর নাম। সন্তু পানের অবশ্য ছাত্রাবস্থায় বা পরে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
এ দিন মথুরাপুরে অমিত শাহের জনসভা কভার করার দায়িত্ব ছিল সন্তুর ওপর। দুপুর পর্যন্ত পেশাদার সাংবাদিকের মতোই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তার পর হঠাৎ চ্যানেলের হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টকে ই-মেল করে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন সন্তু। সেই সঙ্গে চ্যানেলের বুম (মাইক) ক্যামেরার ট্রাইপডের ফাঁকে গুঁজে দিয়ে আইডি কার্ডটি এক সহকর্মীর হাতে তুলে দেন। বিমূঢ় ক্যামেরা পার্সন বাধ্য হয়ে একাই বাকি লাইভ চালিয়ে যান।
বিজেপি সূত্রে খবর, জগন্নাথের মতই সন্তুকে এবার ভোটে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি।
সাংবাদিকতা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। কংগ্রেস নেতা ও ক্রিকেট প্রশাসক রাজীব শুক্ল একদা হিন্দি দৈনিকের সাংবাদিক ছিলেন। এম জে আকবর, স্বপন দাশগুপ্ত, হরিবংশ নারায়ণ সিং, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ প্রমুখ অনেকেই পরবর্তীকালে সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
বাংলায় এহেন উদাহরণ এখনও পর্যন্ত হাতেগোণা। তবে রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূলে প্রার্থী মনোনয়নের সময় আসন্ন হলেই, বহু সাংবাদিকের নাম জল্পনায় উঠে আসে। বিশেষ করে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। প্রবীণ সাংবাদিকদের একাংশের মতে, এদিন যা ঘটেছে তা নাটকীয় এবং তার মধ্যে একটা আকস্মিকতা রয়েছে। ফারাক শুধু এটুকুই।