বারবার ধর্ষণ ও গোপন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে সোনারপুরে এক সরকারি আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ।নাবালিকা অবস্থায় নির্যাতনের ঘটনায় পকসো ধারায় মামলা রুজু, শুরু তদন্ত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 January 2026 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারের বিশ্বাস ছিল অগাদ। ‘কাকু’ বলে ডাকতেন নাবালিকা। এক পরিচিত মানুষই যে একদিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে উঠবেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। ঘটনা সোনারপুর এলাকার। ব্ল্যাকমেল ও তারপর ধর্ষণের অভিযোগে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে ভূমি সংস্কার দফতরের (Land Reforms Department) এক আধিকারিককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি বেশ কয়েক বছর আগের। সেই সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক। সম্প্রতি তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়েতেও বাধা হয়ে দাঁড়ান অভিযুক্ত। অতীতের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি-ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে হবু বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন ওই আধিকারিক। এরপরই নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার (Sonarpur Police Station) সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন, তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে (POCSO Act) পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও ফৌজদারি হুমকির ধারাও যুক্ত হয়েছে। ধৃত আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
কীভাবে এই ভয়ঙ্কর সম্পর্কের শুরু?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে নির্যাতিতার বাবা অভিযুক্তের বাড়িতে পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযুক্তকে ‘কাকু’ বলে ডাকতেন নির্যাতিতা। পরিবারের তরফেও তাঁর সঙ্গে ঘোরাফেরায় বিশেষ কোনও বাধা ছিল না। মাঝেমধ্যেই তিনি ওই ‘কাকু’র সঙ্গে বাইরে বেরোতেন।
অভিযোগ, এই বিশ্বাসকেই কাজে লাগান অভিযুক্ত। ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার নাবালিকাকে ধর্ষণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ভয় আর লজ্জার চাপে কাউকে কিছু বলতে পারেননি নির্যাতিতা। এভাবেই কেটে যায় অনেকগুলো বছর।
সম্প্রতি বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ফের শুরু হয় আতঙ্ক। অভিযোগ, হবু বরের বাড়িতে গিয়ে ওই ছবি-ভিডিও দেখান ওই আধিকারিক এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজে বিবাহিত এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার রয়েছে।
নির্যাতিতা এদিন বলেন, “একবার নয়, একাধিকবার আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গোপন ছবি তুলে রেখে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করেছে ও। ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাকে বারবার হোটেলে নিয়ে গেছে। ভয়ে বাধ্য হয়েই যেতে হয়েছিল।”
পুলিশের দাবি, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। পরিবারিক বিশ্বাসের আড়ালে এমন অপরাধ ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল—চেনা মুখই কি সবচেয়ে অচেনা বিপদ?