বড়দিনের আগেই স্বস্তি গ্লেনারিজ কর্তৃপক্ষের। হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে আপাতত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত খোলা থাকছে দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজের বার।

গ্লেনারিজ ও বিচারপতি অমৃতা সিনহা
শেষ আপডেট: 24 December 2025 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিং মানেই পাহাড়, কুয়াশা আর গ্লেনারিজ (Glenary’s)। পর্যটকদের কাছে এই ক্যাফে-বার শুধু খাওয়াদাওয়ার জায়গা নয়, রীতিমতো একটা আবেগ। গ্লেনারিজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি না তুললে দার্জিলিং সফর যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়-এমনই মনে করেন অনেকে। আর গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট না করলে তো পাহাড়ে ছুটির স্বাদই মাটি। শীতের ভিড় শুরু হচ্ছে, ঠিক তার মুখেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল দার্জিলিংয়ের এই আইকনিক প্রতিষ্ঠান। আচমকাই নোটিস জারি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল গ্লেনারিজের বার। তালা ঝুলেছিল পানশালায়। সামনে বড়দিনের (Christmas) ছুটি, পর্যটকদের ভিড় বাড়বে—এমন সময় এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই বিপাকে পড়েন কর্তৃপক্ষ।
তবে অবশেষে স্বস্তির খবর এল বড়দিনের আগেই। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে (Jalpaiguri Circuit Bench) মামলার শুনানিতে গ্লেনারিজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দিল আদালত। বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) নির্দেশ দিয়েছেন, বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্লেনারিজের বার চালু রাখা যাবে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই মামলাটি আগামী ৫ জানুয়ারি আবারও সার্কিট বেঞ্চে উঠবে। অর্থাৎ আপাতত সাময়িক স্বস্তি মিললেও আইনি লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ ডিসেম্বর। আবগারি বিধি (Excise Rules) না মানার অভিযোগ তুলে আবগারি দফতর (Excise Department) গ্লেনারিজ বারের লাইসেন্স সাসপেন্ড করে। তার চার দিন পর, অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর, বারটি সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, আবগারি আইন অমান্য করা হয়েছে বলেই এই কড়া পদক্ষেপ। প্রাথমিকভাবে নির্দেশ ছিল, তিন মাস বন্ধ থাকবে গ্লেনারিজের বার।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় গ্লেনারিজ কর্তৃপক্ষ। মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী এশা আচার্য (Esha Acharya) জানান, আদালত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বার চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখানেই নাটকের শেষ নয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার (State Government) ডিভিশন বেঞ্চে (Division Bench) যায়। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী (Justice Tapobrata Chakraborty)-র ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশই কার্যকর থাকছে।
পুলিশের আরও অভিযোগ ছিল, গ্লেনারিজে নিয়মিত যে গানের আসর বসে, তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এই বিষয়টিকেও আবগারি আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। যদিও গ্লেনারিজের মালিক অজয় এডওয়ার্ড (Ajay Edward) শুরু থেকেই এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র (Political Conspiracy)। তিনি বারবার বলেছেন, পর্যটন মরশুমের মুখে এমন সিদ্ধান্ত দার্জিলিংয়ের ভাবমূর্তির পক্ষেও ক্ষতিকর।
বড়দিনের ঠিক আগে আদালতের এই নির্দেশে তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শুধু গ্লেনারিজ কর্তৃপক্ষই নয়, দার্জিলিংয়ের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। পাহাড়ে ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকদের কাছে গ্লেনারিজ যে আলাদা আকর্ষণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সেই পরিচিত গ্লাসে পানীয় তুলে দেওয়া যাবে-এই খবরেই খুশি দার্জিলিং।