দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিল আম্বানির রিলায়েন্স কমিউনিকেশন, রিলায়েন্স টেলিকম ও রিলায়েন্স ইনফ্রাটেলের ব্যাঙ্ক খাতাকে জালিয়াতি অ্যাকাউন্ট বলে চিহ্নিত করল স্টেট ব্যাঙ্ক।
হালফিলে ভারতের শিল্প মানচিত্রে যা কালো দাগ বলেই মনে করছেন অনেকে। একটা সময় ছিল, যখন মুকেশ ও অনিল আম্বানির ব্যবসার আয়তন নিয়ে তুলনা হত। মুম্বইয়ে শিল্প মহলের অনেকে বলতেন, বাবার ব্যবসার ভাগাভাগিতে কমই পেয়েছেন অনিল।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সেই মানুষটার ব্যবসা রসাতলে তো গেছেই, স্টেট ব্যাঙ্কের মতো বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অনিলের সংস্থার ব্যাঙ্ক খাতাকে যে শ্রেণিতে ফেলেছে তা বিশ্বাসযোগ্যতাতেও ধাক্কা দিল।
বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা প্রসঙ্গে স্টেট ব্যাঙ্ক তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে। যে ঘটনার পর ব্যাঙ্ক জালিয়াতি নিয়ে সিবিআই তদন্ত অনিবার্য হয়ে উঠছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আদালত এদিন ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দিয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয়।
রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের প্রাক্তন ডিরেক্টর পুনীত গর্গ ২০১৬ সালের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একটি সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এক তরফা ভাবে অ্যাকাউন্টগুলিকে ফ্রড বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক বিচারের প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এদিন স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দিল্লি হাইকোর্টে জানিয়েছে, তহবিল তছরূপ করা ও অন্য অনিয়মের পরিষ্কার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাদের অডিটে তা ধরা পড়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনাদায়ী ঋণ বহুদিন ধরে থাকলে তা নন পারফর্মিং অ্যাসেট বলে চিহ্নিত করা হয়। তার পর ব্যাঙ্ক ফরেনসিক অডিট করে। তাতে যদি তহবিল তছরূপ, অন্য খাতে টাকা সরানো, বেআইনি লেনদেনের মতো ব্যাপারে সন্ধান পাওয়া যায়, তা হলে ফ্রড বা জালিয়াতি অ্যাকাউন্ট বলে চিহ্নিত করা হয়। তার পর তা জানাতে হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে।
তা ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী জালিয়াতির অঙ্ক যদি ১ কোটি টাকার বেশি হয় তা হলে সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। যদি জালিয়াতি করা টাকার পরিমাণ ১ কোটির কম হয় তা হলে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত করে দেখে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে জানানোর ৩০ দিনের মধ্যে সিবিআই বা পুলিশের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করতে হয়।