দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ধরে দেওয়া নয় সার্স-কভ-২ ভাইরাসের প্রোটিনও শনাক্ত করতে পারে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট। করোনা সংক্রমণ চিহ্নিত করার জন্য বাকি পরীক্ষা পদ্ধতিগুলির মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়াই হল এই আরটি-পিসিআর পদ্ধতি। তবে সমস্যা একটাই, এই প্রক্রিয়ার খরচ বেশি এবং সময়সাপেক্ষ। এই দুই ঘাটতি পূরণ করেই নতুন রকমের আরটি-পিসিআর টেস্ট পদ্ধতি নিয়ে এল রিল্যায়ান্স লাইভ সায়েন্স।
রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমেরাইজ চেন রিঅ্যাকশন তথা আরটি-পিসিআর প্রদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষাও হবে এবং সময়ও কম লাগবে, এমনটাই জানিয়েছেন রিল্যায়ান্স লাইফ সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা। মাত্র ২ ঘণ্টায় আরএনএ ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারবে রিল্যায়ান্সের আরটি-পিসিআর কিট। খরচও হবে সাধ্যের মধ্যেই।
কম্পিউটেশনাল বায়োলজির সাহায্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের প্রায় ১০০ রকমের জিনোম বিশ্লেষণ করে এই নতুন রকম টেস্ট কিট বানিয়েছে মুকেশ আম্বানির সংস্থা। এই টেস্ট কিটের নাম আর-গ্রিন কিট (সার্স-কভ-২-রিয়েল টাইম পিসিআর)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই টেস্ট কিটের প্রযুক্তিতে সায় দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের বৈশিষ্ট্য হল এই পদ্ধতিতে করোনার জিন সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। অন্যান্য র্যাপিড টেস্ট প্রক্রিয়ায় রক্ত বা নাক-গলা থেকে নেওয়া নমুনা কিটে ফেললে তাতে রঙের বদল দেখে ভাইরাসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ঠিক করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ফলস রেজাল্ট আসতেও দেখা গেছে। কিন্তু আরটি-পিসিআরে সেই সম্ভাবনা কম। কারণ ক্রমান্বয়ে কয়েকটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভাইরাসের জিন চিহ্নিত করে এই টেস্ট পদ্ধতি। সে কারণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা।
রিল্যায়ান্স জানিয়েছেন, তাদের তৈরি টেস্ট-কিট কম সময়ের মধ্যেই ভাইরাল জিন শনাক্ত করে ফেলতে পারবে। ই-জিন, আর-জিন, আরডিআরপি (RdRp) জিন এবং সার্স-কভ-২ ভাইরাসের আরএনএ প্রোটিন সঠিকভাবে স্ক্রিনিং করে আলাদা করবে এই আরটি-পিসিআর টেস্ট পদ্ধতি। বিজ্ঞানীদের দাবি, ৯৮.৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক ডেটা দেবে এই টেস্ট কিট।
গবেষকরা বলছেন, দ্রুত জিনের গঠন বদলে ফেলছে করোনা। তার একটা স্ট্রেন অন্যটির থেকে আলাদা। তাই ভাইরাল জিন চিহ্নিত করতেও সমস্যা হচ্ছে। এর কারণ হল, স্পাইক প্রোটিনের ৬১৪ পজিশনে (অ্যাসপারেট থেকে গ্লাইসিন)এই বদলটা হচ্ছে। S-D614 ও S-G614 প্রোটিনের মধ্যে এই বদলটা দ্রুত হচ্ছে। এই দুই প্রোটিনই মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম ২ (ACE-2) এর মাধ্যমেই কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে। এই বদলের ফলে তারা আরও দ্রুত রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢুকতে পারছে। গবেষকরা বলছেন, এই মিউটেশনের কারণে মানুষের শরীরে নতুন রিসেপটর প্রোটিনও খুঁজে নিতে পারে ভাইরাল স্ট্রেন।