.jpeg)
মকসুদ লস্কর।
শেষ আপডেট: 4 January 2025 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: আপনি কী সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে থাকেন? স্ক্রোল করে রিলস ঘাঁটাই কী অভ্যাস? অনেকে বদঅভ্যাস বললেও রিলস ভিডিও ঘেঁটেই লাভবান হয়েছেন হাওড়ার মকসুদ লস্কর।
ইউটিউব দেখে তৈরি করে ফেলেছেন ফুল গাছের নার্সারি। তাঁর তৈরি গাছের চাহিদা এতটাই বেশি, যে এখন জোগান দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন মকসুদ।
হাওড়ার সাঁকরাইলের মানিকপুর গ্রামের গোরাবাঁধ এলাকায় রয়েছে মকসুদের এই বাগান। ফুলের সঙ্গে একাধিক ধরণের ফলের গাছও রয়েছে সেখানে। মকসুদের এই বাগানে দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন। সেলফি রিলও তৈরি করছেন। শুধু তাই নয়, মকসুদকে দেখে এলাকার যুবক-যুবতীরাও উৎসাহ পাচ্ছেন কিছু করার।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসা খাতুন, নাসিমুল মোল্লাদের কথায়, যেকোনও জিনিসের মধ্যে ভাল এবং খারাপ দুটো দিকই থাকে। কে কীভাবে সেটাকে গ্রহণ করছেন, এটাই আসল কথা। এক্ষেত্রে মকসুদ লস্কর আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণা। সদিচ্ছা থাকলে যে অনেক কিছু করা যায়, উনি সেটা করে দেখিয়েছেন।
এককালে হাওড়ার মঙ্গলাহাটে কাপড়ের ব্যবসা ছিল মকসুদের। কিন্তু বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে জীবন যুদ্ধে ভেঙে পড়া নয়, বরং সংসারের হাল ধরতে ডেল্টা জুট মিলে কাজ নেন মকসুদ। ২০০৯ সালে মিল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন মকসুদ। হাড়ভাঙা খাটনিতে অসুস্থও হয়ে পড়েন তিনি। তাই সেই কাজও ছাড়তে হয় মকসুদকে।
সেই সময়ে সঙ্গে থাকা মুঠোফোনে ইউটিউব দেখতে শুরু করেন এই প্রবীণ। সিদ্ধান্ত নেন নার্সারি খোলার। এইভাবে ইউটিউব মাকসুদকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছে। মকসুদের কথায়, "সোশ্যাল মিডিয়ায় সব খারাপ নয়। শিক্ষামূলক অনেক কিছুই থাকে। শুধু নির্বাচনটাই আসল।"
কাপড় ব্যবসায়ী থেকে মিলের শ্রমিক হওয়ার পরে নার্সারির মালিক হয়ে ওঠা মকসুদের এই গল্প পাড়া-প্রতিবেশীদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।