বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পেশা আর নেশা—দু’দিক থেকেই হাত, কবজি আর আঙুলের উপর চলছে নিরবচ্ছিন্ন চাপ।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধৈর্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে স্ক্রিনের আলোয়। সাত থেকে পনেরো সেকেন্ডে বদলে যাচ্ছে মন। এক রিল, তার পর আরেকটা। গেম খুললেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোথায় উধাও, টেরই নেই। দু’হাতের বুড়ো আঙুল সারাক্ষণ ওভারটাইমে—স্ক্রল, ট্যাপ, ফায়ার। মোবাইলই যেন জীবনের একমাত্র জানলা (Reel-game addicted urban youth)।
কিন্তু সেই আঙুলই হঠাৎ একদিন ‘লক’ হয়ে যাচ্ছে। বোতল ধরতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ছে, আঙুলে অদ্ভুত ঝিনঝিনি, সঙ্গে ব্যথা। মাথায় ঘুরছে, ভয়—এই আঙুল কি আর আগের মতো কাজ করবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পেশা আর নেশা—দু’দিক থেকেই হাত, কবজি আর আঙুলের উপর চলছে নিরবচ্ছিন্ন চাপ। জেন-জি, এমনকি জেন আলফাও বাদ নেই। দিনে পড়াশোনা, অফিসে কিবোর্ড-টাইপিং আর মাউস ক্লিক। অবসরে রিলস, গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তহীন স্ক্রল। ফল? শরীর প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, যুবসমাজের একাংশকে কাঁদাচ্ছে তিনটি ‘ডিজিটাল রোগ’! কারপাল টানেল সিনড্রোম, ট্রিগার ফিঙ্গার এবং গেমার্স থাম্ব।
সমীক্ষা বলছে, তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের কর্মীরা যে সব ব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগেন, তার প্রায় ৩৭ শতাংশই হাত, কবজি ও আঙুলকেন্দ্রিক। অর্থাৎ স্ক্রিনের সামনে যতটা সময়, ততটাই বাড়ছে ঝুঁকি।
শিয়ালদহ ইএসআইয়ের ইনস্টিটিউট অব পেইন ম্যানেজমেন্টের ইনচার্জ ডাঃ গার্গী নন্দী জানাচ্ছেন, “কবজির কারপাল হাড়ের মধ্য দিয়ে মিডিয়ান নার্ভ যায়। অতিরিক্ত বা ভুল ভঙ্গিতে ব্যবহার হলে সেখানে প্রদাহ হয়। তখন আচমকাই হাত থেকে জিনিস পড়ে যেতে পারে, ঝিনঝিনি বা টনটন ব্যথা শুরু হয়।”
আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল আর গেমিংয়ের চাপে আঙুল বন্দুকের ট্রিগারের মতো আটকে যাওয়া, এটাই ট্রিগার ফিঙ্গার। গেমে আসক্তদের ক্ষেত্রে বুড়ো আঙুলে যে তীব্র ব্যথা হয়, চিকিৎসকেরা তাকে বলছেন গেমার্স থাম্ব।
তাহলে উপায়?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বেশ স্পষ্ট। প্রথমত, হাত আর আঙুলকে মাঝেমধ্যে ছুটি দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিরতি, সামান্য হাঁটাচলা জরুরি। দ্বিতীয়ত, ভুল ভঙ্গিতে টাইপিং নয়, ডেস্কে কাজের সময় কবজির জন্য নরম সাপোর্ট ব্যবহার করা দরকার। তৃতীয়ত, সুগার, ব্লাড প্রেসার বা থাইরয়েড থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। না হলে এই সমস্যাগুলির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্ক্রিনের দুনিয়ায় দৌড় থামবে না। কিন্তু একটু সচেতন হলেই, হাত আর আঙুলের এই ‘ডিজিটাল বিদ্রোহ’ থামানো যে সম্ভব, সেটাই বলছেন চিকিৎসকেরা।