শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ ৫ লক্ষ টাকার বন্ডের বিনিময়ে তাঁর জামিনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের ফলে আপাতত তাঁর জেলমুক্তির পথ প্রশস্ত হল।

শান্তিপ্রসাদ সিনহার জামিন
শেষ আপডেট: 27 February 2026 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহার (Shanti Prasad Sinha Bail) জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ ৫ লক্ষ টাকার বন্ডের বিনিময়ে তাঁর জামিনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের ফলে আপাতত তাঁর জেলমুক্তির পথ প্রশস্ত হল।
দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি শান্তিপ্রসাদের জামিনের আবেদনের শুনানিতে আদালত বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত থাকার সময় তিনি নিজের এলাকা ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। এছাড়া, তাঁর পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখতে হবে এবং তদন্তকারী অফিসার ও আদালতকে তাঁর ব্যবহারের দু'টি ফোন নম্বর জানাতে হবে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সে কারণে সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা তাঁদের প্রভাবিত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তাঁকে। মামলার নথিপত্র বিকৃত (টেম্পারিং) করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। সবশেষে, নিয়োগ দুর্নীতির এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া অতি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে শান্তিপ্রসাদ সিনহা। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়— দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ানো একাধিক হেভিওয়েটের সঙ্গে তাঁর নামও উঠে আসে প্রথম সারিতে। ২০২২ সালের অগস্ট মাসে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির পর তাঁর বাড়ি থেকে ৫০ লক্ষ টাকা, দেড় কেজি সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ইডি-র হাতে জেলবন্দি অবস্থায় নতুন করে গ্রেফতারও হতে হয় তাঁকে।
কলেজ শিক্ষক থেকে কমিশনের 'পাওয়ার সেন্টার'
কিন্তু কে এই শান্তিপ্রসাদ? পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, তখন শান্তিপ্রসাদ দক্ষিণ কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজে গণিত পড়াতেন। তবে শিক্ষকতার গণ্ডি ছাপিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই সুবাদেই প্রথমে এসএসসি-র সচিব এবং পরবর্তীতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে কমিশনের উপদেষ্টা পদে বসেন তিনি।
দুর্নীতির নেপথ্যে ক্ষমতা ও দাপট
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শান্তিপ্রসাদের দাপট বহু গুণ বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্যের একাধিক কলেজের পরিচালন সমিতির দায়িত্বেও বসেন। অভিযোগ ওঠে, মেধা তালিকায় কারচুপি এবং টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রির প্রতিটি ধাপে তাঁর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল।
চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন এবং আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর শান্তিপ্রসাদের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই এবং ইডি-র নজরে থাকা এই ব্যক্তিত্বের গ্রেফতারি, কেলেঙ্কারির গভীরতাকে প্রকাশ্যে এনেছিল।