কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর-সহ আটটি পুরসভায় ৬০০-র বেশি বেআইনি চাকরি হয়েছে।

কলকাতা পুরসভা
শেষ আপডেট: 2 January 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুর নিয়োগ দুর্নীতি (municipality recruitment case) মামলায় আলিপুর আদালতে (Alipore Court) চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল সিবিআই (CBI)। সেই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন, আইএএস জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের (Jyotishman Chatterjee)।
তাছাড়া চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর-সহ আটটি পুরসভায় ৬০০-র বেশি বেআইনি চাকরি হয়েছে। এই দুর্নীতির সময় ডিএলবি বিভাগের ডিরেক্টর ছিলেন জ্যোতিষ্মান। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু গোপাল রায়ের বিরুদ্ধে আগেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তালিকায় উঠে আসে বেশ কয়েক জন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নাম। তারপরই পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন করে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি শুরু করে সিবিআই। তদন্তকারীরা মনেই করছিলেন, প্রভাবশালীদের ভূমিকা এবং জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য চার্জশিটে জায়গা পেতে পারে।
প্রসঙ্গত, স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরেই প্রথমে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরবর্তীতে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একাধিক ওএমআর শিট ও উত্তরপত্র। সেখান থেকেই পুরসভা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ইঙ্গিত মেলে। জানা যায়, পুরসভার নিয়োগ পরীক্ষায় ওএমআর সংক্রান্ত দায়িত্ব ছিল অয়নের সংস্থার উপরই। তদন্তে নেমে এই সূত্র ধরেই একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
২৪ সালে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দিয়েছিল সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতিতে কী ভাবে টাকা লেনদেন হত, সেই চার্জশিটে তার হদিস দিয়েছিল তারা। পাশাপাশি, কী ভাবে চাকরি পাওয়া যেত, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল। সিবিআই চার্জশিটে দাবি করেছিল, অয়নের দুই এজেন্টের মাধ্যমে বেশ কয়েক জন চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে কমিশন নিয়েছিলেন অয়নের এজেন্টরা। সেই সময় বলা হয়েছিল, অয়নের মাধ্যমে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় নিয়ম-বহির্ভূত ভাবে অনেকে চাকরি পেয়েছেন। চার্জশিটে শমীক চৌধুরী নামে এক এজেন্টের কথা জানায় সিবিআই।
সিবিআইয়ের তদন্তে দাবি করা হয়, অয়ন শীলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও এজেন্ট শমীকের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ জন চাকরিপ্রার্থী বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, দেবেশ চক্রবর্তী ওরফে কানুদা নামে আরও এক এজেন্টের নাম উঠে এসেছে, যাঁর মাধ্যমে অন্তত ১৪ জন প্রার্থী অর্থের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তকারীদের মতে, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অয়নের এজেন্টরা ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করেছিলেন।
এতেই শেষ নয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, পুরসভা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ১৮২৯ জন বেআইনি ভাবে চাকরি পেয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রই ছিল সিবিআইয়ের নজরদারিতে।