দোলে দিঘা ও মন্দারমণিতে রেকর্ড হারে মদ বিক্রি। মাত্র দু’দিনেই কোটি কোটি টাকার দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ার বিক্রির তথ্য সামনে এল আবগারি দফতরের পরিসংখ্যানে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোলের উৎসব মানেই রং, আবির আর আনন্দ। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরে (Purba Medinipur) সেই উৎসবের সঙ্গে যেন সমার্থক হয়ে উঠছে মদ বিক্রি (Liquor Sale)। চলতি বছরের দোল উৎসব ঘিরেও সেই চিত্রই সামনে এল। মার্চের প্রথম চার দিনে জেলায় প্রায় ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। জেলা আবগারি দফতরের (Excise Department) পরিসংখ্যান বলছে, উৎসবের আবহে আবারও মদ বিক্রির ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।
জেলা আবগারি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৭৭ হাজার লিটার বাংলা মদ (Country Liquor) বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি মদ (Foreign Liquor) বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার লিটার এবং বিয়ার (Beer) বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার লিটার। এই চার দিনজুড়ে জেলায় মোট ২৮৮টি মদ বিক্রয় কেন্দ্র (Liquor Shop) খোলা ছিল।
দোলের আগে রবিবার অর্থাৎ ১ মার্চ জেলায় মোট ৭ কোটি ২১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৫২ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। ওই দিনও জেলার সব মিলিয়ে ২৮৮টি দোকান খোলা ছিল। আবগারি দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, দোলের আগে রবিবার পড়ায় সেদিন মদ বিক্রির পরিমাণ হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যায়।
২ মার্চ, সোমবার মদ বিক্রির অঙ্ক আরও চড়ে। ওই দিন জেলায় দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৯৪ হাজার ৮১৩ লিটার। বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৫২৪ লিটার এবং বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৭২ লিটার। সব মিলিয়ে ওই দিন মোট মদ বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি ২৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪০ টাকা।
৩ মার্চ দোলের দিন সরকারি নিয়ম মেনে জেলাজুড়ে মদ বিক্রয় কেন্দ্র মাত্র আট ঘণ্টা খোলা ছিল। তাতেও বিক্রি কমেনি খুব একটা। ওই দিন ৪৮ হাজার ৩৪৯ লিটার দেশি মদ, ৩৭ হাজার ৯২০ লিটার বিদেশি মদ এবং ৩৬ হাজার ২৯৮ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে। মাত্র আট ঘণ্টায় মোট বিক্রির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ ২৯ হাজার ২৭২ টাকা।
দোলের পরের দিন ছুটি থাকায় ৪ মার্চ, বুধবারও মদ বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই দিন ৬৬ হাজার ৬৭৯ লিটার দেশি মদ, ৪০ হাজার ২৪৫ লিটার বিদেশি মদ এবং ৪৪ হাজার ২৮৩ লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে। মোট বিক্রির অঙ্ক প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ ১২ হাজার ৮৭০ টাকা।
জেলা আবগারি দফতরের আধিকারিক মণীশ শর্মা (Manish Sharma) বলেন, “দোলের দিন বেলা দু’টোর পর থেকে মদ বিক্রয় কেন্দ্র খোলা ছিল। তাই ওই দিন বিক্রি কিছুটা কম হয়েছে।”
একদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, অন্যদিকে উৎসব বা ছুটির দিনে মদ বিক্রিতে শীর্ষে থাকার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শিক্ষামহলের একাংশ। জেলার এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ নন্দ (Amitabh Nanda) বলেন, “উৎসবের সময় প্রচুর পর্যটক (Tourist) দিঘা (Digha), মন্দারমণি (Mandarmani) এবং তাজপুরে (Tajpur) বেড়াতে আসেন। সেই কারণেই মদ বিক্রি বাড়ে।” ফলে রংয়ের উৎসব দোলেও পূর্ব মেদিনীপুরে অনেকেই রঙিন আবিরের চেয়ে ‘রঙিন পানীয়’-তেই বেশি মজেছেন বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।