রাজ্যের প্রত্যেকটি বড় শহরে বিগবাজার তৈরি করা হবে। সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য দুটি ফ্লোর রাখতে হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি পালক। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (Self Help Groups) ঋণদানের নিরিখে (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে) সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করল বাংলা (West Bengal)। শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ ৷ কেন্দ্রের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টেই এই তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে মোট ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। উপকৃত হয়েছে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পালা বদলের আগে অর্থাৎ ২০১০ সালে স্বনির্ভর গোষ্ঠী পিছু রাজ্যে ঋণের গড় পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার টাকা। সেখানে এবারে বাংলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী পিছু ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় তিন লক্ষ টাকা। প্রসঙ্গত, এর মধ্যে অধিকাংশ স্বনির্ভর গোষ্ঠীই মহিলা দ্বারা পরিচালিত হয়।
প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই মেয়েদের আর্থিক স্বনির্ভরতার উপর জোর দিয়েছেন, তারই নিটফল ১৪ বছরে স্বনির্ভরগোষ্ঠীগুলির এই চোখধাঁধানো সাফল্য।"
গ্রামীণ জনগণের আর্থিক উন্নতিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রচলন শুরু হয়েছিল বাম আমলে। তৃণমূলের জমানায় তা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নিরিখে এই মুহূর্তে সারা দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের মোট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা ১২ লক্ষ ১ হাজার। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ১.২১ কোটি পরিবার।
এবারে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে আনন্দধারা প্রকল্পে চলতি অর্থবর্ষে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে রাজ্যের প্রতিটি বড় শহরে বিগ বাজার তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে রাজ্য। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রত্যেকটি বড় শহরে বিগবাজার তৈরি করা হবে। সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য দুটি ফ্লোর রাখতে হবে।