ডিএ মামলার অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, জুন মাসের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে কর্মচারীদের। যার অর্থ ১০ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা।
.jpeg.webp)
বাংলার বাড়ি খাতে টাকা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বর মাসে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাইমলাইন ধরে টাকা দেবে সরকার। কোনও নড়চড় হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রথম কিস্তির টাকা যেভাবে ঘড়ি-ক্যালেন্ডার ধরে গিয়েছিল তা ‘কেস স্টাডি’ হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির প্রহর আসতে আসতে মাঝ পথে দেখা গিয়েছে মহার্ঘ সংকট। ডিএ মামলার অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, জুন মাসের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে কর্মচারীদের। যার অর্থ ১০ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা অনিবার্য ভাবে এসে পড়েছে রাজ্যের কোষাগারের উপর, যা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বাংলার বাড়ির মতো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও কারওকারও মনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
কিন্তু দেখা গেল, মহার্ঘ ধাক্কা আছড়ে পড়ার আগেই বাংলার বাড়ি প্রকল্প খাতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা তথা প্রায় ৭ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে নবান্ন।
জানিয়ে রাখা ভাল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৬০ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। বাকি ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু আবাস যোজনায় কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক তরফা ভাবে রাজ্যের কোষাগার থেকে ১২ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি বানানোর জন্য টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর জন্য রাজ্যের খরচ হচ্ছে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা গত অর্থ বছরে দিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাকিটা দিচ্ছে এবার।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের তিন কিস্তিতে টাকাটা দেওয়া হয়। প্রথমে ৬০ হাজার টাকা, তার পর ৪০ হাজার টাকা এবং শেষ কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা। রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর সেই মডেল অনুসরণ করার কথা স্থির করেছিল। কিন্তু পরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, টাকাটা দুই কিস্তিতে যাবে। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা। পরের কিস্তিতে আরও ৬০ হাজার টাকা।
পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, ১১.৮৪ লক্ষ বাড়িতে পরিদর্শনের কাজ হয়েছে। দেখা গেছে, এর মধ্যে ৮.৬৫ লক্ষ বাড়ি ইতিমধ্যেই লিনটেল পর্যন্ত নির্মিত হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ গড়ে ৭২.১০ শতাংশ কাজ শেষ।
তবে এখনও কিছু জেলায় গতি ধীর। যেমন প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর পরেও ৫টি জেলার ৫০ শতাংশেরও কম বাড়ি লিনটেল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা।
সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ৫ জেলা:
দক্ষিণ ২৪ পরগনা – ৫০.১৯%
দক্ষিণ দিনাজপুর – ৬২.৭৫%
কোচবিহার – ৬৬.৯%
মুর্শিদাবাদ – ৬৭.৬৬%
এসএমপি- (Special Municipal Project) – ৬৭.৯১%
সবচেয়ে ভাল কাজ হয়েছে যেসব জেলায়:
নদিয়া – ৯৪.৯১%
পশ্চিম বর্ধমান – ৯১.৪১%
উত্তর দিনাজপুর – ৮৭.৪১%
পুরুলিয়া – ৮৪.৯২%
হাওড়া – ৮৩.৭২%
এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১২ লক্ষ উপভোক্তার কাছে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পৌঁছে গিয়েছে। ৭২ শতাংশেরও বেশি বাড়ি ইতিমধ্যেই লিনটেল পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির গতি ধরে রাখতে পঞ্চায়েত দফতর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।