পুলিশ অফিসারকে গালিগালাজের ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে জেলা পুলিশ।

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 31 May 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুরের আইসিকে মোবাইলে অকথ্য গালিগালাজের ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার সকাল ১১টায় বোলপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) এর অফিসে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সকাল থেকেই এসডিপিও অফিসে পৌঁছে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঋকি আগরওয়াল। তবে বেলা ১১টার পরও এসডিপিও অফিসে দেখা যায়নি অনুব্রতকে। পরিবর্তে তাঁর হয়ে পাঁচজন আইনজীবী এসডিপিও অফিসে আসেন। কিছু পরেই তাঁরা ফিরেও যান। তবে এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলতে রাজি হননি তাঁরা।
তবে কি শনিবার পুলিশি হাজিরার মুখোমুখি হবেন না কেষ্ট মণ্ডল? নাকি দেরি করে যাবেন? এ ব্যাপারে এখনও অনুব্রতর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। হাজিরা না দিলে পুলিশ কী কঠোর পদক্ষেপ করবে? এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, আরও দু'বার নোটিস দেওয়া হবে। তার মধ্যে হাজিরা না দিলে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।
তবে তাঁর ঘনিষ্ট মহল সূত্রের খবর, এদিন পুলিশের তলবে অনুব্রত নাও সাড়া দিতে পারেন। পরিবর্তে সোমবার জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানাতে পারেন।
অনুব্রত ঘনিষ্ট সূত্রের খবর, যেহেতু অনুব্রতর বিরুদ্ধে মোট চারটি ধারায় মামলা, যার মধ্যে দুটি জামিন অযোগ্য ধারায় রয়েছে, তাই জামিন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে জেলার পাঁচজন আইনজীবীকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ওই সূত্রের দাবি, 'আইনজীবীদের কথা মতোই সিদ্ধান্ত নেবেন অনুব্রত।"
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়।
নবান্নের নির্দেশে শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপরই তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে অনুব্রতর বিরুদ্ধে দল পদক্ষেপ করবে। এরপরই চিঠি লিখে দলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠক থেকেও ক্ষমা চান তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে চক্রান্তর প্রশ্নও তোলেন কেষ্ট।
তবে শুক্রবার দুপুরে নবান্নের নির্দেশে জেলা পুলিশের তরফে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ওই নোটিস দেওয়া হয়। অনুব্রত মণ্ডল হাজিরা দিতে আসবেন ধরে নিয়ে সকাল থেকে এসডিপিও অফিস ব্যারিকেডে মুড়েও ফেলা হয়। তবে সকাল ১০টার পর সেই ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়। তা থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করে, অনুব্রত এদিন পুলিশি হাজিরায় নাও থাকতে পারেন। ঘড়ির কাঁটায় ১১টার বাজার কিছু আগে এসডিপিও অফিসে ঢোকেন পাঁচজন আইনজীবীর ওই দল।