প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা—গবাদি পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, পানীয় জল ফুটিয়ে খান এবং ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন। না হলে আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে ‘ইঁদুরজ্বর’-এর থাবা।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলে (Rajganj, Sannyasikata) নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক—গবাদি পশুর (Cattle) শরীরে মিলেছে লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু (Leptospira)!
প্রাণীসম্পদ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকার সাত-আটটি গ্রাম থেকে সংগৃহীত রক্তনমুনার অন্তত ৭০ শতাংশেই মিলেছে এই মারাত্মক জীবাণু। ফলে নতুন করে উদ্বেগে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ দফতর।
ইঁদুরবাহিত এই সংক্রামক রোগ (Rat Fever) ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনায় রীতিমতো তৎপর প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত গবাদিদের আলাদা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের উপ অধিকর্তা অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, “পরিস্থিতি যথেষ্ট চিন্তার। আমরা নমুনা পাঠিয়েছিলাম, যার মধ্যে কিছু পজিটিভ এসেছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে গিরণগঞ্জের এক যুবকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, সর্দি-কাশির পর তাঁকে রাজগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় লেপ্টোস্পাইরার জীবাণু ধরা পড়ে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জন্ডিস বলে জানায়। পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হলেও সেখানেই বৃহস্পতিবার যুবকের মৃত্যু হয়।
রাজগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাহুল রায় জানান, “রিপোর্ট না দেখে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইঁদুরের মূত্র হয়তো পানীয় জলে মিশেছে, সেই জল গবাদি পশু খেয়েছে। আবার আক্রান্ত গবাদির মূত্র থেকেও জলদূষণ হয়ে থাকতে পারে। প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতরের সহকারী অধিকর্তা একান্তিকা মণ্ডল বলেন, “এই সংক্রমণের চক্র ভাঙতে হবে। শুধু রোগ দমন নয়, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
সূত্রের খবর, ইঁদুর ধরতে খাঁচা কেনার পরিকল্পনা চলছে জোরকদমে। পাশাপাশি সন্ন্যাসীকাটার একটি মুরগি ফার্মের ক্ষেত্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণে মালদহের সরকারি ফার্ম মডেল অনুসরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা—গবাদি পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, পানীয় জল ফুটিয়ে খান এবং ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন। না হলে আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে ‘ইঁদুরজ্বর’-এর থাবা।