দলীয় সূত্রে খবর, রাহুলের মনোনয়নের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হলফনামা বা এফিডেভিট। কারিগরি কিছু ভুলের কারণেই দফায় দফায় থমকে যেতে হয়েছে তাঁকে।

রাহুল সিনহার মনোনয়ন
শেষ আপডেট: 5 March 2026 14:11
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যসভার টিকিট মিলেছে ঠিকই, কিন্তু মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে একেবারে ভজঘট দশা বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু লক্ষ্মীবারে বিধানসভায় মনোনয়ন দিতে গিয়েও ভুল ভ্রান্তিতে হোঁচট খেলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। ফলে বেলা ১২ টায় যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও সংশোধনের গেরোতেই আটকে রইলেন তিনি। চারটি ফাইল তৈরি করা হলেও চারটিতেই একই ভুলের কারণে এই বিলম্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, রাহুলের মনোনয়নের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হলফনামা বা এফিডেভিট। কারিগরি কিছু ভুলের কারণেই দফায় দফায় থমকে যেতে হয়েছে তাঁকে। যেমন, যেখানে স্পষ্ট করে ‘Not Applicable’ লেখার কথা ছিল, সেখানে লেখা হয়েছে সংক্ষেপে ‘N/A’। আবার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হলফনামার নির্দিষ্ট কিছু জায়গা হাতে লেখার নির্দেশ থাকলেও, ভুলবশত তা ছাপানো বা ‘প্রিন্টেড’ হয়ে এসেছে।
বিজেপির পরিষদীয় দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত দু’দিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে যাবতীয় নথি গুছিয়ে উঠতে দেরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সব কাজ মেটাতে গিয়েই এই বিপত্তি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আসরে নামতে হয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। এক সময় বিরক্তি প্রকাশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “শমীকদার (ভট্টাচার্য) নমিনেশন ফাইলটা বের করে মিলিয়ে দেখুন।” উল্লেখ্য, আগের বার শমীক ভট্টাচার্যের মনোনয়ন নির্ভুলভাবেই জমা পড়েছিল।
গত মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছ’টি রাজ্যের ৯টি আসনের নাম ঘোষণা করে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিকে ছিঁড়েছে রাহুল সিংহের। এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সম্পাদকের পদ হারানোর পর দীর্ঘ সময় দলের কোনও পদেই ছিলেন না তিনি। এমনকি, তাঁকে সরিয়ে অনুপম হাজরাকে পদ দেওয়া নিয়ে একদা বিদ্রোহও করেছিলেন রাহুল। তবে দল ছাড়েননি।
শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে রাহুলের গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে। ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র মতো কর্মসূচিতে তাঁকে প্রথম সারির বক্তা হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি। দীর্ঘ বনবাস কাটিয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ এলেও, শেষ লগ্নের এই মনোনয়ন বিভ্রাট রাহুলের ‘গ্রহের ফের’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে এ বার রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে নির্বাচন। বিধানসভায় বর্তমান শক্তির সমীকরণ অনুযায়ী, তার মধ্যে চারটি আসন তৃণমূলের এবং একটি আসন বিজেপির।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাদের চার জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। অন্য দিকে, বিজেপিও একটি আসনের জন্য তাদের প্রার্থী হিসেবে রাহুলের নাম জানিয়েছে। ফলে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই তাঁর রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।