
শেষ আপডেট: 26 May 2023 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সুরাতের আদালতে মানহানি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে খোয়াতে হয়েছে সাংসদ পদ। ফলে নিয়ম মেনে নিজের কূটনৈতিক পাসপোর্টটা জমা করে এসেছিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi lost diplomatic passport)। এবার আসন্ন মার্কিন সফরের আগে নিজের জন্য সাধারণ পাসপোর্টে 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট'-এর আবেদন করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
কিন্তু এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট কী? কেনই বা তা আলাদাভাবে ইস্যু করা হয়?
সরকারি পরিভাষায় কূটনৈতিক পাসপোর্ট বা 'ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট'-কে বলা হয় টাইপ ডি পাসপোর্ট। সাধারণত বিদেশমন্ত্রকের তরফে কর্মরত কূটনীতিক, সরকারি আধিকারিক এবং নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি যারা ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশ সফর করেন, তাঁদেরই একমাত্র এই ধরণের পাসপোর্ট দেওয়া হয়।
সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টের মত গাঢ় নীল রঙের বদলে কূটনৈতিক পাসপোর্টে মেরুন রঙের মোড়ক থাকে।
কূটনৈতিক পাসপোর্টে সাধারণত ২৮ পাতা থাকে এবং ৫ বছর বা তারও কম সময়ের জন্য এগুলি ইস্যু করা হয়। পক্ষান্তরে, সাধারণ পাসপোর্ট ১০ বছর বৈধ থাকে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট কেবলমাত্র পাতিয়ালা হাউসে বিদেশমন্ত্রকের পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র থেকেই ইস্যু করা হয়। তবে আবেদন করতে চাইলে কেউ তার নিজের বাড়ির নিকটস্থ পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রেই আবেদন করতে পারেন।
কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীরা নানা সুযোগসুবিধে পেয়ে থাকেন। যেমন বিদেশের মাটিতে স্থানীয় আইনে গ্রেফতারি বা আটক বা তল্লাশি থেকে রেহাই, বিশেষ ভিসার সুবিধে, স্থানীয় দেশের ভারতীয় দূতাবাস থেকে বিশেষ 'ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল'-এর সুবিধে ইত্যাদি। সাধারণত এই পাসপোর্টধারীরা বিদেশে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেই এমন ছাড় দেওয়া হয়।
পাশাপাশি, এই পাসপোর্ট সঙ্গে থাকলে বিমানবন্দরে অভিবাসন দফতরের খানাতল্লাশি বা এমনকি সাধারণ নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়েও যেতে হয় না।
স্বাভাবিকভাবেই এই পাসপোর্ট আমজনতার জন্য নয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রক বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে কেবলমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তিকেই এই পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। এই পাসপোর্ট থাকলে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটোকল মেনেও চলতে হতে পারে। নির্ভর করছে দুই দেশের সম্পর্ক, সমীকরণ ও প্রোটোকল অফিসারদের ওপর।
জাল ভারতীয় পাসপোর্ট দিয়ে রোমে পালানোর চেষ্টা! বাংলাদেশি ‘বৌদ্ধ সাধু’ গ্রেফতার