দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ বছর আগে খুনের মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। মঙ্গলবার সেই খুনের মামলার কথা তুলে গেরুয়া ব্রিগেডকে বিঁধলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের বিরুদ্ধে। রাহুল অভিযোগ তোলার কিছুক্ষণের মধ্যে জবাব দিয়েছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, অমিত শাহের বিরুদ্ধে যে মামলা ছিল, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাহুলের আইনি ব্যাপারে কোনও ধারণা নেই।
জব্বলপুরে নির্বাচনী সভায় রাহুল বলেন, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ খুনের মামলায় অভিযুক্ত। ওয়াহ্ কেয়া শান হ্যায়! উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, আপনারা কি জয় শাহের নাম শুনেছেন? তিনি একজন জাদুকর। ৫০ হাজার টাকাকে তিন মাসে ৮০ কোটি টাকায় পরিণত করেছেন।
অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০০৫ সালে একটি ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি জড়িত। ওই সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখ নামে এক দুষ্কৃতী নিহত হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে আদালত বলে, ওই ঘটনায় অমিত শাহ জড়িত ছিলেন, এমন প্রমাণ নেই।
অমিত শাহকে এদিন রাহুলের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। আদালত তার রায় দিয়েছে। সেই রায়ের মূল কথা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। রাহুল গান্ধীর আইন সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।
এর আগেও কংগ্রেস অমিত শাহের বিরুদ্ধে খুনের মামলার কথা তুলেছে। বিজেপির বক্তব্য, তাদের সভাপতির চরিত্র হননের চেষ্টা হচ্ছে।
দু’বছর আগে অভিযোগ উঠেছিল, অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের ব্যবসা বিজেপি আমলে ফুলেফেঁপে উঠেছে। একটি নিউজ ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে জয় শাহের সম্পত্তি বেড়েছে ১৬ হাজার গুণ। অভিযোগ, সরকারি সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।
ওই অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরেই কংগ্রেস বিজেপিকে আক্রমণ করতে নেমে পড়ে। রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী চুপ করে রয়েছেন কেন?
অমিত শাহ একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে বলেন, কারও কাছে যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে আদালতে সেগুলি পেশ করুক। নিজের ছেলের পক্ষ নিয়ে তিনি বলেন, সে সরকারি কোনও সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করেনি। বফর্সে যেমন কেউ কেউ কিকব্যাক পেয়েছিল, তাও পায়নি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বফর্সে কিকব্যাক পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অমিত শাহ ঘুরিয়ে সেদিকেই কটাক্ষ করেন।