
শেষ আপডেট: 22 September 2023 07:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোট ও পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন। তার আগে জাতি গণনার দাবি নিয়ে মোদী সরকারের উপর আরও চাপ তৈরি করতে নেমে পড়ল কংগ্রেস (Rahul attacks Modi)।
রাহুল এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে ওবিসি। বিজেপি ওবিসিদের ক্ষমতায়ণের উপর অতীতেও বড় বড় কথা বলে। কিন্তু বাস্তব হল, ওবিসিদের আর্থ সামাজিক উন্নতি ও ক্ষমতায়ণের উদ্দেশে সরকার কিছু করেনি। রাহুলের বক্তব্য, ওবিসিদের আর্থ সামাজিক উন্নতি করতে গেলে আগে খুঁজে বের করতে হবে যে দেশে তাঁদের প্রকৃত জনসংখ্যা কত? সেই জন্য জাতিগত জন গণনার প্রয়োজন। তাই আমাদের দাবি, এর আগে যে জনগণনা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ওবিসিদের সংখ্যা কত ছিল তা প্রকাশ করা হোক। এবং নতুন করে জাতিগত জনগণনা শুরু হোক।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, সামাজিক কারিগরীর (Social Engineering) মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ সহ হিন্দিবলয়ে ওবিসি ভোট ব্যাঙ্কে বিজেপি ক্রমশই আধিপত্য বিস্তার করেছে। তার ফল হাতেনাতে পেয়েছে বিজেপি। অনেকে মনে করছেন, লোকসভা ভোট এবং রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়ে বিধানসভা ভোটের আগে সেই মিথটাই ভেঙে দিতে চাইছেন রাহুল। ওবিসিদের লুব্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রাহুল এদিনও বলেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারে ৯০ জন সচিব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩ জন হলেন ওবিসি। অর্থাৎ সরকার চালানোয় ওবিসিদের অংশীদারিত্ব মাত্র ৫ শতাংশ। সরকারের মোট বাজেটের মাত্র আড়াই শতাংশ বাস্তবায়ণের অধিকার শুধু ওবিসিদের রয়েছে। সরকার কি সত্যিই মনে করে যে দেশে ওবিসিদের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ?
এদিকে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women Reservation Bill) পাশ হওয়ার পর বিজেপিও ইতিমধ্যে রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে নেমে পড়েছে। শুক্রবার সকালে বিজেপির মহিলা নেত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, একমাত্র স্থির ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারই যে এই ধরনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ করতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে।
কিন্তু রাহুল এদিন বলেন, দেশে জনগণনা কবে হবে স্থির নেই। সেই জনগণনা হলে তার ভিত্তিতে লোকসভার আসনের পুনর্বিন্যাস হবে। যা করতে আরও অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ মোদীর কথা শুনলে, আরও দশ বছরের আগে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ চালু হবে না। এটা স্রেফ মানুষকে বোকা বানানো। মহিলাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ণ চাইলে এই লোক ঠকানো বন্ধ হোক।
আরও পড়ুন: মহিলা সংরক্ষণের কৃতিত্ব জাহির মোদীর, দলীয় দফতর থেকে বিরোধীদের তোপ