দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালাবার নৌমহড়ার দ্বিতীয় পর্বে সমুদ্রে শক্তি দেখাবে ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। আকাশে উড়বে ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেট। আজ থেকে ২০ নভেম্বর অবধি গোয়া উপকূলে ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যর সঙ্গে মহড়ায় যোগ দেবে মার্কিন সুপারক্যারিয়ার নিমিৎজ। এই মহড়ায় থাকবে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের দুই যুদ্ধজাহাজও।
লাদাখ সংঘাতের উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমুদ্রেও। গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত মহাসাগরে চিনের বাহিনীর উপদ্রব বেড়েছে। চিনকে আরও কড়া বার্তা দিতে সমুদ্রেও রণসজ্জা তৈরি করেছে ভারত। ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। চিন নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনার আবহে প্রায় নিয়মিত বৈঠক করছেন তিন সেনাবাহিনীর প্রধানরা। চিন এবং পাশাপাশি পাকিস্তান-- এই দুই বিরোধী শক্তিকে রুখতে সবরকম প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা চলছে দফায় দফায়।
https://twitter.com/indiannavy/status/1328369653161226243
সমুদ্রপথে বেজিংয়ের একাধিপত্য, সীমান্তবর্তী দেশগুলির ভূখণ্ডের প্রতি চিনের আগ্রাসন রুখতেই একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। সমুদ্রপথে চিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে এ বছর মালাবার নৌমহড়ায় তাই ভারত, জাপান, আমেরিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, এ বছরের বার্ষিক নৌহমড়ার উদ্দেশ্য হল ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ড ও ওয়েস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া। একদিকে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ ও উপকূলীয় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, অন্যদিকে, কর্নাটককে ফোকাসে রেখে কারওয়ার বেসে নৌশক্তি বাড়িয়ে তোলা।
আজ থেকে চারদিন মালাবার নৌমহড়ার আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে ভারতের গর্বের রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এই রণতরীর সঙ্গ দেবে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান। আইএনএস বিক্রমাদিত্যর সঙ্গে পাল্লা দেবে মার্কিন নৌবাহিনীর পরমাণু শক্তিবাহী এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার নিমিৎজ। মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত নিমিৎজ এবং ইউএসএস রোনাল্ড হল পরমাণু অস্ত্রবাহী রণতরী। দক্ষিণ চিন সাগরেই এই দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে আমেরিকা। মালাবার নৌমহড়ার দ্বিতীয় পর্বে ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস কলকাতা, আইএনএস চেন্নাই, স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস তলওয়ার, ফ্লিট সাপোর্ট আইএনএস দীপকও অংশ নিচ্ছে। অ্যাডমিরাল কৃষ্ণা স্বামীনাথন বলেছেন, শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ ধ্বংস করার রণকৌশল দেখানো হবে এই পর্বের মহড়ায়। ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে যোগ দেবে সাবমেরিন আইএনএস খান্ডেরি ও পি-৮১ এয়ারক্রাফ্ট।
নৌমহড়ার প্রথম দিনে যোগ দিয়েছিল জাপানের তৈরি ইউএসএস জন এস ম্যাককেইন (ডিডিজি-৫৬)যা এখন মার্কিন নৌসেনা ব্যবহার করে, অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর এফএফএইচ-১৫৫ ফ্রিগেট এবং এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার, জাপানের নৌসেনার জেএস ওনামি যুদ্ধজাহাজ ও এসএইচ-৬০ হেলিকপ্টার। ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস রণবিজয়, মাল্টিরোল ফ্রিগেট আইএনএস শিবালিক, আইএনএস সুকন্যা, ফ্লিট ট্যাঙ্কার আইএনএস শক্তি ও সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুরাজ।
মালাবার নৌমহড়ার প্রস্তুতির সঙ্গেই সমুদ্র ও আকাশের বৃহত্তর সামরিক মহড়া ‘ট্রপেক্স’-এর জন্যও প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে ভারত। নাম না করলেও মূলত চিনকে বার্তা দেওয়াই এই নৌ-মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। জলপথে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ সাজিয়ে, আকাশপথে কমব্যাট ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে ভারত দেখিয়ে দেবে যে কোনও জায়গাতেই তারা অপ্রতিরোধ্য। ট্রপেক্স নৌ-মহড়ে হবে আগামী বছর জানুয়ারিতে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখনই।