দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে সামান্যর জন্য রক্ষা পেলেন ফিরোজাবাদের এক পুলিশ আধিকারিক। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ওই আধিকারিক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরেছিলেন ঠিকই, তবে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া গুলি আটকে যায় তাঁর টাকার ব্যাগে।
বিজেন্দ্র কুমার নামে ওই পুলিশ আধিকারিক জানান, তাঁর মনে হচ্ছে তিনি যেন দ্বিতীয়বার জীবন শুরু করছেন। তিনি বলেন, “আমি যখন নলবাঁদ এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলাম তখন কয়েকজন প্রতিবাদকারী গুলি ছোড়ে। আমি আমার পার্সটিকে জ্যাকেটের পকেটে রেখেছিলাম, গুলিটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভেদ করলেও আমার পার্সে আটকে যায়। ওর মধ্যে চারটি এটিএম কার্ড ও কয়েকটি ছবি ছিল, তার মধ্যে শিব ও সাঁইবাবার ছবিও ছিল। মনে হচ্ছে আমি যেন দ্বিতীয়বার জীবন শুরু করছি।”
https://twitter.com/ANINewsUP/status/1208572807942066176
পুলিশ জানিয়েছে, এখন ওই জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এক বরিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের মানুষের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নিবেদিত প্রাণ, এটাই তাদের অগ্রাধিকার। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। স্পর্শকাতর এলাকায় উপযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।”

উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ৫৭ জন পুলিশকর্মী হিংসাত্মক প্রতিবাদে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৬৩জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আইজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রবীন কুমার বলেন, “চারশোরও বেশি কার্তুজের খোল উদ্ধার করা হয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রতিবাদকারীরা দেশি বন্দুক থেকে গুলি চালিয়েছিল। তাতে তাদের নিজেদের লোকের পাশাপাশি নিরীহ লোকেরও মৃত্যু হয়।”
উত্তরপ্রদেশে শুক্রবারে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১৩টি জেলায় বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হ য়েছিল শুক্রবার। এই জায়গাগুলি হল: সাহারানপুর, দেওবাঁদ, সামলি, মুজফফরনগর, মিরাট, গাজিয়াবাদ, হাপুর, সম্ভল, আলিগড়, বাহারাইচ, ফিরোজাবাদ, কানপুর, ভাদোহী ও গোরক্ষপুর।
গত তিনদিনে যোগীর রাজ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের গুলিতেই সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি তারা গুলি চালায়নি। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের ২১টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।