দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোরেগাওঁ-ভীমা মামলায় তদন্ত শেষ করার জন্য পুলিশকে আরও সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট পুলিশকে বাড়তি সময় না দিলে ওই মামলায় জুন মাসে যে পাঁচ সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁরা জামিন পেয়ে যেতেন । আর আগে বম্বে হাইকোর্ট তদন্ত শেষ করার জন্য বাড়তি সময় দিতে অস্বীকার করে । সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় নাকচ করে দিয়েছে ।
ধৃত বুদ্ধিজীবীরা এলগার পরিষদ নামে এক সংগঠনের সদস্য । অভিযোগ গত ৩১ জানুয়ারি তাঁরা যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার জেরে ১ জানুয়ারি কোরেগাওঁ-ভীমা অঞ্চলে হিংসা ছড়ায় । পুলিশ গত জুন মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে । তাঁরা হলেন আইনজীবী সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাপক সোমা সেন, দলিত অধিকার কর্মী সুধীর ধাওয়ালে এবং সমাজকর্মী মহেশ রাউত ও রোনা উইলসন । অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে মাওবাদীদের যোগাযোগ আছে । তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-তে মামলা করা হয় ।
এর পরের দফায় জুলাইয়ের শেষে আর একদফা ধরপাকড় হয় । তখন ভারভারা রাও, গৌতম নওলাখা প্রমুখ গ্রেফতার হন । এদিন মহারাষ্ট্র পুলিশ তদন্তে বাড়তি সময় না পেলে প্রথম দফায় অর্থাৎ জুন মাসে যাঁদের গ্রফতার করা হয়েছিল, তাঁরা জামিন পেতেন ।
২৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্র সরকারের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী নিশান্ত কাটনেশ্বর । তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় নাকচ করে সুপ্রিম কোর্ট যদি তদন্তের সময় না বাড়ায়, তা হলে জুন মাসে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল সকলে জামিন পেয়ে যাবেন ।
ইউএপিএ-র নিয়ম হল, কাউকে ধরার ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে হয় । না হলে ধৃত জামিন পেয়ে যায় । পুলিশ যদি কোনও কারণে চার্জশিট না দিতে পারে, আদালতকে জানাতে হবে কেন দেরি হচ্ছে । আদালত ইচ্ছা করলে বাড়তি ৯০ দিন সময় দিতে পারে ।
এর আগে পুনে আদালত পুলিশকে বাড়তি সময় দিয়েছিল । কিন্তু হাইকোর্ট সময় দিতে অস্বীকার করে । কিন্তু নিশান্ত কাটনেশ্বরের কথা শুনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ হাইকোর্টের আদেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দেন ।