নির্যাতিতার পরিবারের সুরেই এদিন সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আরজি কর মামলায হঠাৎ করে চুপ মেরে গেছে সিবিআই!

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 June 2025 22:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের মামলায় (RG Kar Case) দু'দিন আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI) বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ এনেছিলেন মৃত ডাক্তারি ছাত্রীর বাবা-মা (victim's family)। তাঁদের অভিযোগ, সিবিআই টাকার বিনিময়ে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এবার এই অভিযোগে নির্যাতিতার মৃত্যুর ১০ মাসের মাথায় প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ল আরজি কর হাসপাতালের সামনে। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে এদিন মিছিলের ডাক দিয়েছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। সন্ধেয় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মিছিল আসতেই পুলিশ আটকে দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন প্রতিবাদীরা। মিছিলে রয়েছেন একাধিক চিকিৎসকও। বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। যার জেরে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় আরজি কর হাসপাতালের সামনে। যার প্রতিবাদে টালা থানার সামনেও অবস্থান বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদীরা।
নির্যাতিতার পরিবারের সুরেই এদিন সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, "কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আরজি কর মামলায হঠাৎ করে চুপ মেরে গেছে সিবিআই"! এর প্রতিবাদে এদিন থেকেই আন্দোলন আরও তীব্রতর করার ডাক দিয়েছেন প্রতিবাদীরা।

তাঁদের কথায়, দেখতে দেখতে ১০ মাস পেরিয়ে গেল। অথচ ওই রাতের ঘটনায় আর কে কে জড়িত তা নিয়ে ধোঁয়াশা দূর হল না। এর প্রতিবাদে ৯ অগস্টের আগে গোটা রাজ্য জুড়ে অন্তত ১০০টা সভা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
মেয়ের খুনের বিচার চেয়ে দু'দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখেছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাঁরা বলেন, "মেয়েদের খুনের প্রকৃত বিচারের জন্য প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করব। আমাদের কাছে খবর এসেছে, সিবিআই টাকার বিনিময়ে আসল ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে।" এবার একই অভিযোগ করলেন প্রতিবাদীরা। এ ব্যাপারে তদন্তকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়া অবশ্য জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট গভীর রাতে আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে কর্তব্যরত জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয় গোটা দেশ। সুপ্রিম কোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়। একই সময়ে, শিয়ালদহ আদালতে আরজি করের মূল মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আদালত দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে, নিম্ন আদালতের এই রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। অনেকে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। কেন আরজি করের ঘটনার গুরুত্বকে 'বিরলতম' অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে। এবার অতীতের মতোই আন্দোলন তীব্রতর করার ডাক দিলেন প্রতিবাদীরা।