সভামঞ্চের উপরেই একুশে জুলাইয়ের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ঢেকে দিতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। এনিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। তবে শেষপর্যন্ত পুলিশ রাজি হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

শেষ আপডেট: 29 July 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দফা দাবি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। জয়েন্ট পরীক্ষার ফলপ্রকাশ (WBJEE Result Out), ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের শংসাপত্র নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবিতে মঙ্গলবার কলেজ স্কোয়ারে বিদ্যাসাগরের মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ চলবে তাঁদের। এদিকে সভা মঞ্চের উপরেই একুশে জুলাইয়ের ব্যানারে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
এসএফআই (SFI), এআইএসএফ, এআইএসএ, পিএসইউ-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেবে। সেইজন্য আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সভামঞ্চের উপরেই একুশে জুলাইয়ের ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ঢেকে দিতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। এনিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। তবে শেষপর্যন্ত পুলিশ রাজি হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে কটাক্ষ ছুড়ে বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর শুধু ছবি আছে, কিন্তু সঠিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এখন তাঁর ছবি ঢাকা দেওয়া যাবে না। পুলিশ আর কোথায় নামবে!'
তিনি আরও বলেন, 'তাদের (পুলিশ) পরিবারের ছেলে মেয়েরাও তো জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়েছে। তাঁদের রেজাল্ট বেরোচ্ছে না। এরপর বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে বেসরকারি কলেজে পাঠাতে হবে।' এই বিক্ষোভ সকলের জন্য বলেই উল্লেখ করেন দেবাঞ্জন।
পাশাপাশি আরও জানা যায়, এই অবস্থান বিক্ষোভ শেষে একটি প্রতিনিধি দল বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন জমা দিতে যাবে।
দেবাঞ্জন সাফ জানিয়ে দেয়, 'মঞ্চের আশেপাশে কোথাও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকবে না। কারণ আমাদের বিক্ষোভের সময় মাথার উপর মুখ্যমন্ত্রীর ছবি থাকবে না।' তাঁর কথায়, 'পুলিশ কখনও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে পেরে উঠবে না।'
প্রসঙ্গত, রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার (WBJEE) ফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল প্রকাশ করা হোক। মামলাকারীদের দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য ইতিমধ্যেই জয়েন্টের ফলাফল প্রকাশ করে ফেলেছে। কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণ মামলার জেরে পশ্চিমবঙ্গে তা এখনও ঝুলে রয়েছে। এতে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলার ছাত্রছাত্রীরা।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয় মঙ্গলবার। ডিভিশন বেঞ্চ জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ হতে পারে শুনানি।