স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্টেশন চত্বরে ঢুকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের হাতে ছিল SIR প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় লেখা পোস্টার। এক পর্যায়ে একটি টোটোর উপর পোস্টার লাগিয়ে স্টেশনে ঢোকারও চেষ্টা করা হয়। যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় সেই টোটো দ্রুত স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে - এই অভিযোগকে সামনে রেখে শনিবার সকাল থেকে বর্ধমান স্টেশনে (Burdwan Station) ছড়াল তীব্র বিক্ষোভ। কয়েক ঘণ্টার এই আন্দোলনের জেরে কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্টেশন চত্বরে ঢুকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ (Budwan Station Protest SIR)। তাঁদের হাতে ছিল SIR প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় লেখা পোস্টার। এক পর্যায়ে একটি টোটোর উপর পোস্টার লাগিয়ে স্টেশনে ঢোকারও চেষ্টা করা হয়। যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় সেই টোটো দ্রুত স্টেশন এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ একাংশ বিক্ষোভকারী সরাসরি রেল লাইনের উপর শুয়ে পড়েন। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে রেল পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে তাঁদের ট্র্যাক থেকে সরাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে হাওড়া থেকে আসা হাওড়া–বর্ধমান লোকাল ট্রেন স্টেশনে ঢুকেও আটকে পড়ে। যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে গেলেও বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। পরে বিক্ষোভকারীদের লাইন থেকে সরানোর পর লোকালটিকে কারশেডে পাঠানো হয়।
বেলা প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও, স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় রেল পুলিশকে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন এবং দেশের বৈধ নাগরিক। অথচ SIR প্রক্রিয়ায় সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের বারবার শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। কাজকর্ম ছেড়ে দিনের পর দিন হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এই ঘটনার তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ শনিবারই SIR প্রক্রিয়ার আওতায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশের কথা নির্বাচন কমিশনের। তার ঠিক আগে এই বিক্ষোভ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepency) নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, তালুক অফিস এবং শহরের ওয়ার্ড অফিস-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জনসমক্ষে এই তালিকা টাঙাতে হবে। উদ্দেশ্য - সংশ্লিষ্ট ভোটাররা যেন সহজেই জানতে পারেন তাঁদের নাম কোনও সমস্যার তালিকায় রয়েছে কি না।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নথি জমা দিলেই হবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ERO বা AERO-এর মাধ্যমে শুনানি বাধ্যতামূলক। এই শুনানি সরাসরি অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। নথি গ্রহণ ও শুনানির সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে, যা পরে BLO অ্যাপে আপলোড করা হবে।
যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁরা নিজেরা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। প্রতিনিধি হিসেবে বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) থাকলে ভোটারের সই বা টিপসই-সহ অনুমতিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন।