পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক অস্বস্তিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিএলও-সহ সাধারণ ভোটারের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, আবার কোথাও শুনানি চলাকালীন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 23 January 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধু চিঠি চালাচালি করে আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। তা না হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নিয়ে যাওয়া হবে - এই হুঁশিয়ারিই দিলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক অস্বস্তিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিএলও-সহ সাধারণ ভোটারের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, আবার কোথাও শুনানি চলাকালীন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নির্বাচন কমিশনকে পরপর পাঁচটি চিঠি দিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু বিজেপির দাবি, যাবতীয় ঘটনার পিছনে রয়েছে তৃণমূলেরই ষড়যন্ত্র। মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে তারা। আর কমিশন পাল্টা চিঠির মাধ্যমে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা ছাড়া কিছু করছে না।
এই প্রেক্ষিতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কমিশন কেন এত নরম অবস্থান নিচ্ছে? শুভেন্দুর কথায়, “চিঠিতে কিছু হবে না। অ্যাকশন নিতে হবে। না হলে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন কমিশন বা তৃণমূল কংগ্রেস আদালতে গেছে, এবার জনগণের হয়ে বিজেপিও আদালতের দ্বারস্থ হবে।
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেস (West Bengal TMC)। শাসক দলের বক্তব্য, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepency) নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে বিজেপির অবস্থানই দুর্বল হয়েছে। সেই কারণেই এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। দলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন (ECI) ইতিমধ্যেই এক কোটির বেশি মানুষকে নোটিস পাঠিয়েছে। শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, এটাকেই যদি ‘নরম লাইন’ বলা হয়, তা হলে কড়া হলে বাংলায় মড়ক লেগে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যাঁরা নথি জমা দেবেন, তাঁদের রসিদ দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন “সুপ্রিম কোর্টের থাপ্পড় খেয়েছে”। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আদালতের মতোই আসন্ন এপ্রিলের ভোটেও জয় পাবে তৃণমূল।
অভিষেকের এই মন্তব্যের জবাব দিতে অবশ্য এক মুহূর্তও দেরি করেননি শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ এখনও আপলোডই হয়নি, তার আগেই জয় ঘোষণার চেষ্টা চলছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে তৃণমূল মিথ্যে প্রচার করছে এবং বাংলার মানুষই শেষ পর্যন্ত তার উপযুক্ত জবাব দেবে।